images

সারাদেশ

যশোরে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড দুই উপজেলা, নিহত ১, আহত ২০

জেলা প্রতিনিধি

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ কৃষক নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের সময় ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়লে ২০টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। সেইসঙ্গে উপড়ে গেছে অর্ধশতাধিক গাছপালা। খুঁটি ভেঙে পড়ায় দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েন। আজ দুপুরে আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেইসঙ্গে বজ্রপাত। দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এ সময় বজ্রপাত আঘাত আনলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তা মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

1349cd14-df6d-41f2-80d0-6f347766023d

অপরদিকে, উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে। অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপরে। এরপর থেকে ওই এলাকাসহ ঝাাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে নয় জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি। আমার প্রতিষ্ঠানের ছাদের ওপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নাই।’ 

a93225e7-0358-4448-bad7-16d61273739e

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।’

আরও পড়ুন

খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে বারীনগরে সবজি বেচাকেনা বন্ধ, বিপাকে কৃষক

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যা পর্যন্ত নয় জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঝড় ও বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি কৃষির। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে, সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে আজ। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তার পরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে তার তালিকা করতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

f9c64cb3-53a5-4515-99d1-60771938a071

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের ওপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। তবে আজ রাতের মধ্যে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা গেছেন। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিনিধি/এসএস