অযৌক্তিক খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহত্তর কাঁচা বাজার যশোরে বারীনগরে সবজি বেচাকেনা বন্ধ ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে তারা সকল প্রকার সবজি কেনাবেচা বন্ধ রাখেন। ফলে বাজারে সবজি বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েন কৃষকরা। এর ফলে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাট মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিষয়টি সমাধান করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, গত বছর বারীনগর বাজারে খাজনা ছিল প্রতি মণে ৮ টাকা হারে। চলতি পহেলা বৈশাখ থেকে বাজারের নতুন ইজারা দেওয়ার পর হঠাৎ ব্যবসায়ী বা কৃষকদের সঙ্গে কোনো প্রকার কথা বলা ছাড়াই আজ সকাল থেকে প্রতি মণে ১ টাকা বৃদ্ধি করে ৮ টাকার জায়গায় ৯ টাকা করেন হাট মালিকরা। এতে ফুঁসে ওঠেন বাজারে সবজি কিনতে আসা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা সবজি কেনা বন্ধ করে দেন। এমন সিদ্ধান্তে বাজারে সবজি বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েন শত শত কৃষক। তারা তাদের সবজি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন রাস্তার ওপর। এসময় বাজারে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ সবজি কেনা বন্ধের সিদ্ধান্তে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে তারা তাদের সবজি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন।
আব্দুস সাত্তার নামের একজন কৃষক জানান, বাজারে খাজনা ও মণ প্রতি খাজনা নিয়ে কিছু সময় সবজি কেনা বন্ধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে সমাধান হলে বেচাকেনা শুরু হয়।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, বাজারে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা প্রতি মণে ইচ্ছা খুশি মত খাজনা নিয়ে থাকেন। এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তারা হাট মালিকদের নজর দিতে অনুরোধ জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে হাট মালিক আব্দুস সালাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময় খাজনা ছিল প্রতি মণে ১০ টাকা। আমরা গত বছর সেটা কমিয়ে ৮ টাকা করি। এ বছর নতুন ডাক পাওয়ার পর সার্বিক লোকসান বিবেচনা করে প্রতি মণে ১ টাকা বৃদ্ধি করে ৯ টাকা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মূলত একটা মহল বাজারে সুনাম নষ্ট করতে ব্যবসায়ীদের ভুল বুঝিয়ে কিছু সময় সবজি কেনা বন্ধ রাখেন। পরে খবর পেয়ে আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করি। এখন বাজারে সকল কেনাবেচা স্বাভাবিক রয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পকে নিদেশ দিয়েছি দ্রুত সমাধানের জন্য।
প্রতিনিধি/টিবি




