images

সারাদেশ

সাতক্ষীরায় সাংবাদিক জিন্নাহর ওপর হামলাকারী মামুন কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আমমোক্তারনামা দলিল সৃষ্টিতে বাধা দিয়ে সাংবাদিক এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহর ওপর হামলা, মারপিট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মামলার ছয়জন আসামির মধ্যে ৪ নং আসামি ছাড়া পাঁচজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডল জামিন নামঞ্জুর করে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং বাকি চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন

পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা করায় দুই ভাইকে অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি

বাদীপক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট পিন্টু। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তোজামসহ অন্যান্যরা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা সোনাডাঙা থানার পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার মোকসুদার রশিদের লক্ষীদাঁড়ি মৌজার ১৮ শতক জমি আমমোক্তারনামা দলিল করে নেওয়ার জন্য এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসারের এজলাসে আসেন। ওই জমির আমমোক্তারনামা দলিল করে নেওয়ার জন্য মাকসুদার রশিদকে ইতোপূর্বে কয়েক দফায় ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ লাখ টাকা রেজিস্ট্রি সম্পাদনের সময় দেওয়ার কথা।

afc422ea-b141-42bc-b4ed-f5aacef57cd6

রেজিস্ট্রারের এজলাসে আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রির সময় আসামিরা চাঁদা বাবদ ৫০ লাখ টাকা চাইলে আসামিদের সঙ্গে জুলফিকার আলি জিন্নাহর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেজিস্ট্রারের এজলাস থেকে আসামিরা জিন্নাহকে ঘাড় ধরে মারতে মারতে বাইরে আনে। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে তাকে অ্যাড. আজাদ হোসেন বেলালের বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে আবার এজলাসের মধ্যে এনে আটকে রেখে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাকে ক্ষয়ক্ষতি করার জন্য ভয় দেখানো হয়। পরে আবারও তাকে মারপিট করা হয়। এ সময় আসামি শেখ মাহাবুব উল্লাহ তার ডান পকেটে থাকা দুই লাখ টাকা ও আসামি টুটুল তার বাম পকেটে থাকা তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্বজনরা জিন্নাহকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।

এ ঘটনায় এনটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ার সৈয়দ শাখাওয়াত আলীর ছেলে সৈয়দ রেজাউল হোসেন টুটুল, তার ছেলে মো. শিহাব, শহরের মুনজিতপুরের ইশারত আলী পান্নার ছেলে শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাটিয়ার শেখ মোশাররফ হোসেনের ছেলে শেখ মাহাবুব উল্লাহ, সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে তরিকুল ইসলাম ও শহরের পলাশপোলের সাইফুল ইসলাম।

প্রতিনিধি/এসএস