মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা করায় দুই ভাইকে অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা করায় দুই ভাইকে অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি

পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা। মীমাংসার কথা বলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও তার ভাইকে মাদারীপুর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণ। দেড়লাখ টাকায় অপহরণকারীদের সাথে প্রতিপক্ষের চুক্তি হয় ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার। শেষমেষ ৪ লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি মিলে ওই চাকরিজীবী ও তার ভাইর। মূলহোতা ও অপহরণকারীদের মোবাইলের কথোপকথন শুনলে গা আঁতকে ওঠার মতন ঘটনা। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর জোরেশোরে তদন্ত নেমেছে পুলিশ।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর পেয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ইসলাম বেসরকারি একটি কোম্পানি রাজধানী ঢাকায় চাকরি করেন। তার ছেলে বায়েজিতকে আমেরিকা নেওয়ার জন্য ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি হয় পাশের মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ সরদারের দুই ছেলে শমশের এবং আবু রায়হানের সঙ্গে। কিন্তু বিদেশে নিতে ব্যর্থ হলে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে অভিযুক্তরা। শেষমেষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গত ৩১ মার্চ মামলা করেন জহিরুল। পরে মামলার বিষয়টি টের পেয়ে ওই দিন রাতে মীমাংসার কথা বলে জহিরুলকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় একটি চক্র। পরে জহিরুলের দুইভাই রাশেদুল ইসলামকে খবর দিয়ে তাকেও জিম্মি করা হয়। তিনদিন রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানাধীন একটি বাসায় আটকে রেখে আদায় করা হয় মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা। পরে জিম্মিদশা থেকে ছাড়া পান জহিরুল ও তার ভাই। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

5b506459-d5ce-43ef-a794-ac75e7e3a920

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে বিদেশে নিতে পারেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। আমি মামলা করলে উল্টো আমাকে ও আমার ভাইকে অপহরণ করে জিম্মি করা হয়। পরে মুক্তিপণ দিলে মুক্তি মিলে। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

প্রতিবেশী দোলন মুনশি বলেন, ‘গুম করে টাকা আদায়ের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিত। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’

6794b9ac-c53c-49db-9814-6664f8cc614d

আরও পড়ুন

‘বাবা, অ্যালাও ঘুমাছিস? ওঠেক!’: কফিনবন্দী সোহানকে দেখে মায়ের আর্তনাদ

এদিকে, অপহরণকারী সামস্ ইশতিয়াক ও পরিকল্পনকারী শমশের সরদার এবং তার ভাই আবু রায়হানের মুঠোফোনে কথোপকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ হাতে আসে প্রতিবেদকের কাছে। সেখানে শোনা যায়, টাকা যা লাগে তা দিতেই প্রস্তুত শমশের। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিতে হবে জহিরুলকে। পরে জহিরুলের স্ত্রী রচনা রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অপহরণকারীরা। সেখানেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। বাধ্য করা হয় মুক্তিপণের টাকা দিতে।

5c06c5ad-d575-44e9-8dc6-4f4f70378e60

গুলশান এলাকার সামস্ ইশতিয়াকের সহায়তায় অভিযুক্ত শমশের আমেরিকা ও তার ছোটভাই আবু রায়হান ফিনল্যান্ড বসেই করে পুরো অপহরণের পরিকল্পনা। যদিও অভিযুক্তদের বাবা আব্দুল লতিফ সরদার ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জহিরুল আমাদের কাছে অল্পকিছু টাকা পাবে। সেটা নিয়ে থানা ও এলাকায় মীমাংসার জন্য বসা হয়েছিল, কিন্তু সমাধান হয়নি। আর অপহরণ করে টাকা আদায় করার ঘটনায় আমার ছেলেরা জড়িত নন।

এদিকে আবু রায়হান মুঠোফোনে জানান, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাইকে কেউ অপহরণ করেনি। কেউ তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ও করেনি। এই কথার কোনো ভিত্তিও নেই।

fe88dc5e-9658-4eb1-a891-c3e9e6a9ebb8

প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সামস্ ইশতিয়াকের। তার দাবি, তিনি দেশের বাইরে আছেন। ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। বলেন, আমি কোনো মুক্তিপণের টাকা রিসিভ করিনি। আপনার লোক টাকা রিসিভ করেছে এমন প্রশ্ন করলে, সেটার সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি। উল্টো সাংবাদিককে খুশি করতে গিফট অফার করেন সামস্ ইশতিয়াক।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে চাকরিজীবী ও তার ভাইকে অপহরণের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মূল ঘটনা রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানাধীন এলাকায় হয়েছে। এ ব্যাপারে বাড্ডা থানা থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা চাওয়া হলে সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে মাদারীপুর জেলা পুলিশ।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর