জেলা প্রতিনিধি
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত সড়কটিতে পিচ ঢালাই হয়েছে মাত্র পাঁচ দিন আগে। এরইমধ্যে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ। এতো নিম্নমানের সংস্কার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, এক যুবক হাত দিয়ে অনায়াসে তুলে ফেলছেন সড়কের পিচ। এই অবস্থা দেখে আশপাশের অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। উপস্থিত লোকজন নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে খোঁজ খবর নিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সম্প্রতি সংস্কার কাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী। তবে কাজ শেষ না হতেই দেখা দিয়েছে অনিয়ম।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান, দায়সারাভাবে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। এত নিম্নমানের কাজ আগে কখনো হয়নি। সড়কটি বেশিদিন টেকসই হবে না বলে জানান তারা। পাশাপাশি এমন নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০৭০ মিটার দৈর্ঘ্যর ওই সড়কটি সংস্কার করছে মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কার্য মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্ট মাসে। কিন্তু চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, হাটবাজার সব জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আমরা এতদিন অবহেলিত ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। মাত্র পাঁচ দিন হলো পিচ ঢালাই করেছে, এখন হাতে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে।
তাজ্জত আলী নামের অপর একজন বলেন, নামমাত্র বিটুমিন দিয়েই সংস্কার কাজ সেরেছে ঠিকাদার। এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।
চারিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান, আমরা এমন রাস্তা চাই না। এই রাস্তা রাস্তা এক মাসও টিকবে না।
এ সড়কটি স্থানীয়দের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন নিম্নমানের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, আমাদের এই রাস্তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়েছে। এই রাস্তার তো বারবার বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যে অবস্থায় রাস্তা হচ্ছে, তাতে কয়দিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ কাজের মান যদি এমন হয়, তবে তা শুধু টাকার অপচয় হবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কার্পেটিং কাজের শুরু পরদিনই সমস্যা দেখে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে যথাযথভাবে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য।
এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের নজরদারি থাকবে। কোনোভাবেই অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকোশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একটা মিটিংয়ে আছি বলে সংযোগ কেটে দেন।
প্রতিনিধি/টিবি