জেলা প্রতিনিধি
১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পরে হাজারও কৃষকদের চেষ্টায় সেই বাঁধ মেরামত করে ফসল রক্ষা করে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় বাঁধটি ফসল রক্ষা বাঁধের আওতাভুক্ত নয়। বাঁধ ভাঙায় ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সুনামগঞ্জের হাওরের মেলানি হাওর অংশে থাকা উজাউনি বাঁধটি রক্ষা করেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, অতিবৃষ্টিতে দেখার হাওরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। হাওরের উতারিয়া বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার পানি নদীতে নামতে না পারায় মেলানির হাওরে পানির চাপ বাড়ে। এ কারণে গত বুধবার উতারিয়া এলাকার বাঁধের কিছু অংশ স্থানীয় কৃষকেরা কেটে দেন পানি নিষ্কাশনের জন্য। এতে করে হাওর থেকে কিছুটা পানি নামেও। কিন্তু পরে প্রশাসনের নির্দেশে আবার বাঁধটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। ফলে আবার পানির চাপ সৃষ্টি হয় মেলানির হাওরের বাঁধে। শনিবার সকালে প্রথমে ওই বাঁধে ছোট নালার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কৃষক সেটি রক্ষার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ভাঙা অংশটি আরও বড় হয়ে হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার মানুষের জমি আছে। এই হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি আছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। হাওরে এবার অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা, গুমরাসহ কয়েকটি জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এই বাঁধ মূল ফসল রক্ষা বাঁধের আওতাভুক্ত নয় জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। বাঁধটি যাতে আর ক্ষতি না হয় সেটির ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস