images

সারাদেশ

রেলওয়ের প্রাচীর ভেঙে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা বিএনপি নেতাকর্মীদের

জেলা প্রতিনিধি

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে রেলওয়ের সীমানা প্রাচীর অনুমতি ছাড়াই একাধিক স্থানে ভেঙে ফেলেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

প্রাচীর ভেঙে রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালায় তারা। খবর পেয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাধা দেয়। পরবর্তী আবারও সুরকি ফেলে দখলের চেষ্টা করলে উপজেলা প্রশাসন গিয়ে তাদের বাধা দেয়।

প্রাচীর ভাঙার কারণে রেলস্টেশনের আশপাশের অংশ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এতে করে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরিয়ে দিক পরিবর্তনের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে আজ বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, রেলওয়ের জাগায় দখল করা হচ্ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টা জানালে আজ দুপুরে গিয়ে তাদের বাধা দেন।

মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জহিরুল ইসলাম সীমানা প্রাচীর ভাঙা ও দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এই অঞ্চলে রেলওয়ের শেষ প্রান্ত। এই স্টেশনের পূর্বপাশে রেলওয়ের বেশ কয়েক একর জায়গা রয়েছে। এক সময় রেলওয়ের এসব জায়গা দখল করে দোকানপাটসহ কয়েকশ অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। ২০২১ সালে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকার। পরে বিপুল বরাদ্দে সীমানা প্রাচীর তৈরি করে জায়গাটি সুরক্ষিত করা হয়। পাশাপাশি স্টেশন উন্নয়ন ও নতুন আরেকটি প্ল্যাটফর্‌ম নির্মাণ করা হয়। এছাড়া যান চলাচলের সুবিধার্থে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে থাকা আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, এই সীমানা প্রাচীরের ভেতর দিয়ে রাস্তা হলে দুই পাশে অসংখ্য দোকান তৈরি করে ভাড়া দিয়ে বিপুল টাকা আয় করা যাবে। এই উদ্দেশে মূলত রাস্তাটি উন্মুক্ত করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে পড়ে একটা সময় পুরো জায়গাটাই দখল হয়ে যাবে বলে তাদের ধারণা। কারণ সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে প্রশস্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চলে গেছে। এতে চলাচলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা হলে ট্রেনের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি- আগে এই জায়গায় একটি রাস্তা ছিল। বিগত স্বৈরাচারী সরকার অপরিকল্পিতভাবে সেই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে তারা আগের সড়কটি উন্মুক্ত করতে চান।

আরও পড়ুন

ফেনীতে ৫০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল মজুদ, অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (ভিপি) বলেন, আমরা অবৈধভাবে কোনোকিছু করার পক্ষে নই। জনস্বার্থে এখান দিয়ে রাস্তা করার দরকার হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করা হবে। আমাদের কিছু নেতাকর্মী এসব করতে চেয়েছিল। তারা দেয়ালের ভাঙা অংশে সুরকিও ফেলেছিল। তবে আজকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সঙ্গে নিয়ে গিয়ে এসব বন্ধ করে দিয়েছি। সঠিক প্রয়োজন তুলে ধরে সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে অনুমতি সাপেক্ষে রাস্তাটি উন্মোচনের চেষ্টা করা হবে।

মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জহিরুল ইসলাম বলেন, অনুমতি ছাড়াই সপ্তাহ খানেক আগে প্রথমে একাধিক স্থানে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। খবর পেয়ে আমরা বাধা দিই। গতকাল আবারও সুরকি ফেলে দখল শুরু করেছিল কিছু লোক। প্রশাসনকে জানানো হলে, আজকে উপজেলা প্রশাসন গিয়ে তাদের বাধা দেয়। আমরা এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

Sunamgonj--

তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি যেহেতু রেললাইনের ওপর দেবে যাবে তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির দরকার। অনুমোদিত হলে রেলওয়ে ওই ক্রসিংয়ে গেটম্যানের ব্যবস্থা করবে। অন্যথায় ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আজ বুধবার এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া এভাবে রেলওয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা অবৈধ। রাস্তা করা হোক আর যাই করা হোক এ বিষয়ে রেলওয়ের অনুমোদন দরকার। খবর পেয়ে কয়েকদিন আগে আমরা ভাঙা ও দখলে কাজে বাধা দিয়েছি। শুনেছি আজকে আবারও সুরকি ফেলে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি- পৌরশহরের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ভাঙা রেলওয়ের সীমানা প্রাচীর, বিপরীত পাশে শহীদ মিনারের পাশে ভাঙা সীমানা প্রাচীর।

প্রতিনিধি/এসএস