জেলা প্রতিনিধি
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করে বিল্ডিং করার প্রমাণ আছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হবে। শুধু শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নয়, ব্যাংক ও বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাও এর আওতায় আনা হবে। এছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে কেউ নকল করে পার পেতে না পারে।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষার আইন সংশোধন হচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ পরিবর্তনের বিষয়টি ক্যাবিনেটে উঠিয়েছি। সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অনেক পরিবর্তন আসবে। ডিজিটাল নকল প্রতিরোধ হবে। পাবলিক পরীক্ষার ডেফিনেশন পাল্টে যাবে।

শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতে এই হার ছিল প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সে সময় শিক্ষাখাতে দুই শতাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা ছিল অপচয় ও অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা ছাড়া দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে, সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংসদ সদস্য থেকে সবার। আমি ফেসবুকে প্রচুর মেসেজ পাচ্ছি, পরীক্ষা পেছানোর জন্য, তারা ভয় পেয়ে গিয়েছে। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিগত সরকারের সময় খাতায় লিখলেও পাশ, না লিখলেও পাশ ছিল। এখন যোগ্যতার ভিত্তিতেই ফলাফল নির্ধারিত হবে।

শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল থেকে অনেক শিক্ষক এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি জানান, এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং আগামী বাজেটের পর ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশে বর্তমানে প্রায় ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। এসময় বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস