images

সারাদেশ

টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু

জেলা প্রতিনিধি

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীসংলগ্ন স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থলবন্দর পুনরায় সচল করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সিএন্ডএফ, এজেন্ট, কাস্টমস ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আজ থেকেই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সীমান্ত বাণিজ্য চালু রাখতে চাই। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেই লক্ষ্যেই টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এদিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও আগে কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পণ্য আমদানি-রফতানিতে বড় কোনো বাধা নেই।

আরও পড়ুন

পিরোজপুরে জেলের জালে ১০ লাখ টাকার লাক্ষা মাছ

এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান স্থলবন্দরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে ওয়ারহাউসে সংরক্ষিত পণ্য পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভুঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

coxbazar

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রায় দেড় বছর ধরে সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকার বড় অংশ চলে যাওয়ায় নাফ নদীতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। কমিশন সংক্রান্ত জটিলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের এপ্রিল থেকে কার্যত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে শতাধিক আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে বন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

প্রতিনিধি/এসএস