জেলা প্রতিনিধি
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং এলাকায় নিরাপত্তাহীন সেচ পাম্পে বোরকা পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে কীর্তিনাশা নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। একই সঙ্গে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রোজিনা বেগম চরপালং এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। প্রতিদিনের মতো সকালে তিনি বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারের উদ্দেশে বের হন। পথে নদীর পাড়ে স্থাপিত একটি সেচ পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসে তার পরিহিত বোরখা পাম্পের ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি যন্ত্রের ভেতরে টেনে নেওয়া হন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও ভয়াবহ। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই রোজিনা বেগম মেশিনের ভেতরে আটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্ধারকাজে থাকা কর্মকর্তারা জানান, দেহটি যন্ত্রে পেঁচিয়ে থাকায় তা বের করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।
নিহতের মেয়ে লাবনী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন মানুষ যাতায়াত করে। অথচ কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই মেশিন বসানো হয়েছে। আমার মা সেই অবহেলার শিকার। আমরা এর বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, অনেকদিন ধরেই আমরা বলছিলাম মেশিনের চারপাশে নিরাপত্তা বেড়া দিতে। কিন্তু মালিকপক্ষ তা করেনি। আজ তাদের অবহেলার কারণেই একটি প্রাণ ঝরে গেল।

পালং মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবীর হোসেন বলেন, সেচ পাম্পটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। এটি অবহেলাজনিত একটি দুর্ঘটনা। মেশিনের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত সব সেচ পাম্পে দ্রুত নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করতে হবে, নইলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
প্রতিনিধি/এসএস