জেলা প্রতিনিধি
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
নেত্রকোনায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা।
এ রোগের চিকিৎসায় জেলা উপজেলার সবগুলো সরকারি হাসপাতালে আলাদা কর্নার চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত ১২ দিনে জেলায় ৩৯ শিশুর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সন্দেহজনক শনাক্তের সংখ্যা ৯৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা থেকে পাঠানো ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে ১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের শিশু চিকিৎসা বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. আবু রায়হান জানান, হামের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ১২-১৩ দিনে সদর হাসপাতালে ২০ শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা চারজনের মধ্যে এক শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। আর ৮ জন বর্তমানে ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা জানান, জেলায় হামের সন্দেহজনক, উপসর্গ ও নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জেলায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭ জন। ল্যাব পরীক্ষার জন্য এ পর্যন্ত ৭৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। শুধুমাত্র ৪ এপ্রিলেই নতুন করে ২৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্বধলা, মদন এবং কেন্দুয়া উপজেলাতেও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা আরও বলেন, যেহেতু এখন নয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই, এমনকি জীবনের প্রথম টিকা পাওয়ার আগেই শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা টিকা দেওয়ার বয়সসীমা কমিয়ে এনেছি। এখন ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে এবং ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বয়স ২ বছরের মধ্যে। শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
প্রতিনিধি/এসএস