images

সারাদেশ

বরগুনায় হামে ৩ শিশুর মৃত্যু, ৪০ কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু

জেলা প্রতিনিধি

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বরগুনা সদর উপজেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ৪০টি কেন্দ্রে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে বরগুনা পৌরসভায় ২৫টি কেন্দ্র এবং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

সকাল থেকেই টিকাকেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে ভিড় করেন অভিভাবকরা। সন্তানদের হামের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে আগ্রহের সঙ্গে টিকা দিতে আসেন তারা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ টিকাদান কার্যক্রম টানা ২১ দিন চলবে এবং টিকার কোনো ঘাটতি নেই।

সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে দেখা যায়, একের পর এক শিশু নিয়ে অভিভাবকরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কখনো কখনো অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাময়িক জটলাও তৈরি হচ্ছে। এ কেন্দ্রের জন্য ২ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা বরাদ্দ রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় এখন পর্যন্ত হামের সন্দেহে ১৪৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গে জেলায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন

পিরোজপুরে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু, পাবে ৬০ হাজার শিশু

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই হামের সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

টিকা দিতে আসা অভিভাবক আকরামুল ইসলাম বলেন, দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় আমরা সন্তানের সুরক্ষার জন্য টিকা দিতে এসেছি।

অন্য অভিভাবক মারিয়া জান্নাত জানান, আমার সন্তান আগেও হামের টিকা নিয়েছে। এবার বুস্টার ডোজ দিতে এনেছি। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. এনামুল কবীর বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্বে টিকা নেওয়া শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় টিকা পাবে। অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Barguna

তিনি আরও জানান, অন্যান্য টিকার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ২৮ দিনের ব্যবধান বজায় রেখে হামের টিকা নিতে হবে। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ সব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, সদর উপজেলায় শুরু হওয়া এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় বিস্তৃত করা হবে। ২১ দিনব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস