জেলা প্রতিনিধি
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
দেশজুড়ে পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় শীর্ষ জেলা রাজবাড়ী। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পেঁয়াজের জোগান আসে এই জেলা থেকে। বিশেষ করে বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালী উপজেলায় ব্যাপক হারে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়। চলতি মৌসুমেও জেলাজুড়ে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে, তবে বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মাঠ থেকে নতুন হালি পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য মোটেও সুখকর নয়।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলো যেমন—বালিয়াকান্দি, সোনাপুর ও কোলারহাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ পেঁয়াজ মাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষুব্ধ কৃষকরা জানান, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ চাষে এবার খরচ অনেক বেশি হয়েছে। অথচ বাজারে দাম কম থাকায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক চাষি আক্ষেপ করে বলছেন, যদি পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হয়, তবে আগামী মৌসুমে আমরা আর পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহী হবো না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর রাজবাড়ী জেলায় মোট ৩৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন প্রত্যাশামতো হলেও বাজারমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে হাজারো চাষি পরিবারের।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজার মনিটরিং এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের অন্যতম এই বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলের চাষিরা বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলার কৃষক মো. হাসমত আলী বলেন, এখন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি মাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়। অথচ এক মণ পেঁয়াজ ফলাতে আমাদের খরচ হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার ওপরে। সার, ডিজেল আর শ্রমিকের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে এই দামে বিক্রি করলে আমাদের ঘর থেকে টাকা দিতে হবে। এভাবে চললে আগামীতে পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
গোয়ালন্দ উপজেলার কৃষক রোকনুজ্জামান বলেন, মৌসুমের শুরুতেই যখন আমাদের নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসে, তখনই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবর পাওয়া যায়। এতে বাজারের দরপতন ঘটে। গত বছরও আমরা লোকসান দিয়েছি। যদি প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম অন্তত ২০০০ টাকা না হয়, তবে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। সরকার যদি এই সময়ে আমদানির ওপর নজরদারি করতো, তবে আমরা ন্যায্য দাম পেতাম।

কালুখালী এলাকার কৃষক মো. উজ্জ্বল শেখ বলেন, আমাদের দাবি একটাই—পেঁয়াজের কেজি যেন খুচরা বাজারে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে না নামে। তা না হলে রাজবাড়ীর হাজার হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসাণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো শহিদুল ইসলাম বলেন, এবছর রাজবাড়ীতে ৫ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন যেহেতু উত্তোলন মৌসুম আমাদের দেশে সরবরাহ বেশি থাকে চাহিদার তুলনায় এজন্য পেঁয়াজের দাম কম থাকে। পেঁয়াজের দাম যদি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ হতো তাহলে কৃষক লাভবান হতো। উৎপাদনের কয়েকদিন দাম কম থাকলেও আশা করি পরবর্তীতে কৃষক বেশি দাম পাবে।
প্রতিনিধি/টিবি