শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রাজবাড়ীতে হালি পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজবাড়ীতে হালি পেঁয়াজের বাম্পার ফলন
ছবি : ঢাকা মেইল

পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলার অবস্থান তৃতীয়। এ জেলাতে দেশের উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের ১৪ শতাংশ উৎপাদন হয়। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে কালুখালী, বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি। এ জেলায় মুড়িকাটা ও হালি পেঁয়াজের আবাদ করেন চাষিরা। এখন ক্ষেত থেকে হালি পেঁয়াজ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। 


বিজ্ঞাপন


আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে কৃষি বিভাগের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এবছর রাজবাড়ীতে ৩৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে তা ২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর বেশি। চাষাবাদ বেশি হওয়ায় উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। 

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবছর জেলায় ৪ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে উঠে দিনব্যাপী মাঠ থেকে পেঁয়াজ তোলা এবং পেঁয়াজ পরিস্কার করে ঘরে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলার চাষিরা। পুরুষেরা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে এনে বাড়ির উঠানে নামাচ্ছেন। নারীরা সেই পেঁয়াজ পরিস্কার করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন।

গত বছরের চেয়ে কম দামে পেঁয়াজের বীজ ক্রয়, চারার মূল্য কম, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা এবার ব্যাপকহারে পেঁয়াজ রোপন করেছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


তবে চলতি মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি ও তেলের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় সেচের মূল্য বৃদ্ধি এবং পেঁয়াজের মাটি প্রস্তুতে খরচ বেশি হওয়ায় চাষিরা পড়েছেন হতাশায়।
পেঁয়াজ চাষিরা জানান, যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাতে করে পেঁয়াজের মূল্য বাজারে কম হওয়ায় লাভের চেয়ে লোকসানের সম্ভাবনা বেশি। চাষিদের দাবি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। তা নাহলে পেঁয়াজ চাষিদের লোকসান আরও বাড়বে। মাঠ পর্যায়ের চাষিরা পাইকারদের কাছে প্রতি মণ হালি পেঁয়াজ আকার ভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। 

পাইকাররা রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাট বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে বিক্রি করেন। 
রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের বহর কালুখালীর ৭নং ওয়ার্ডের পেঁয়াজ চাষি মো. চুন্নু বিশ্বাস বলেন, আমাদের এখানে ২৬ শতাংশে ১ পাকি জমি। এ বছর আমি আড়াই পাকি জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ করেছি। শতাংশে ১ মণ করে পেঁয়াজ হয়েছে। মৌসুমে কয়েকবার অনাকাঙ্খিত বৃষ্টিতে ফলন বেশি হয়নি। আমাদের হিসেবে ১ শতাংশ জমিতে দেড় মণ করে পেঁয়াজ হওয়ার কথা।

চাষি রবিউল ইসলাম জানান, কালুখালীতে পেঁয়াজের ব্যাপক চাষাবাদ হয়ে থাকে। আমি ২ পাকি জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ করেছি। এখন ক্ষেত থেকে পেয়াজ উঠিয়ে বাজারে নিচ্ছি। প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভরা মৌসুমে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হলে আমরা লোকসানে পড়বো।

আরেক পেঁয়াজ চাষি শহর আলী বলেন, পৌষ মাসে হালি পেঁয়াজ রোপন করেছিলাম। চৈত্র মাসে পেঁয়াজ উঠেছে। পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে পেঁয়াজ

কিনে ট্রাকে বোঝাই করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এবছর পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে বাড়িতে একটা গাভী কিনবো। 
জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের বড় বাজারের মেসার্স লস্কর ট্রেডার্সের আড়ৎদার মো. ফিরোজ লঙ্কর জানান, প্রতি মণ পেঁয়াজ সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা মণ প্রতি ক্রয় করা হচ্ছে।

পাইকার মজিবর সেখ বলেন, আমি এখান থেকে পেঁয়াজ কিনে কুমিল্লা জেলায় নিয়ে বিক্রি করছি।  
আরেক পাইকার সঞ্জয় দেউরী জানান, জঙ্গল ইউনিয়ন থেকে পেঁয়াজ কিনে ট্রাকে লোড দিয়ে আমি যশোরের বাজারে নিয়ে যাচ্ছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম সহিদ নূর আকবর জানান, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে কিছু পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হলেও আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে গিয়ে চাষিদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ শেষে এখন চৈত্র মাসে হালি পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে কৃষি বিভাগের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এবছর রাজবাড়ীতে ৩৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ৮৬৫ হেক্টর বেশি। চাষাবাদ বেশি হওয়ায় উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর রাজবাড়ীতে ৪ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

এইচই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর