জেলা প্রতিনিধি
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
লক্ষ্মীপুরে একটি দোকানে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির সংবাদে তদন্ত করতে গিয়ে বেদম পিটুনির শিকার হয়েছেন ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক ইমন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ছাত্রদলের আরেক নেতা আল-আমীন হোসেন রুদ্র। তারা দুইজনে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশীদুল হাসান লিংকন আহত ছাত্রদলের দুই নেতাকে হাসপাতালে দেখতে যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা অভি ও জিদান চৌধুরী।
এর আগে, দুপুরে সদর উপজেলার দালাল বাজার মোরগ হাঁটা তোফায়েল আহমেদের তেলের দোকানের সামনে হামলার শিকার হন ছাত্রদলের দুই নেতা।

ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক ইমন দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২য় বর্ষের ছাত্র। এছাড়া আল-আমীন হোসেন রুদ্র উত্তর হামছাদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ইমন ও রুদ্র জানান, বেলা ১১টার দিকে ইমন দালাল বাজারে তোফায়েলের দোকানে তেল কিনতে যান। গিয়ে জানতে পারেন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৩০-১৪০ টাকা করে রাখা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত দাম হচ্ছে ১১৬ টাকা। দোকানদার তোফায়েলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তার ছেলে জিহাদ ও তার অনুসারীরা এসে ইমনকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে ইমনকে উদ্ধার করতে আসলে হামলাকারীরা ছাত্রদল নেতা রুদ্রকেও বেদম মারধর করে। ভাঙচুর করা হয় তাদের দুইটি মোটরসাইকেল।
সদর উপজেলা (পশ্চিম) ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির প্রতিবাদ করে ছাত্রদলের ইমন। ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানদার তোফায়েলের ছেলে জিহাদ তার অনুসারীদের নিয়ে ইমনকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতা রুদ্র গেলে তারা রুদ্রকেও মারধর করে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে দোকানদার তোফায়েলের ছেলে জিহাদ বলেন, ইমনকে মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। আমরা নিয়মমাফিক তেল বিক্রি করছি। অনেক মানুষ সিরিয়ালে তেল নিচ্ছে। ইমন এসে বিশৃঙ্খলা করেছে। উত্তেজিত পাবলিক তাকে কিছু করেছে কিনা আমাদের জানা নেই।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মুঠোফোন জানান, ঘটনার সময় আমার আদালতে একটি বৈঠক চলছে। তখন একটি ফোন আসে যে, এক ছেলেকে একাধিক যুবক ধাওয়া করছে। ছেলেটা গিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নেয়। পরিষদ থেকে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, বিষয়টি জানা নেই৷ কেউ অভিযোগও করেনি।
প্রতিনিধি/এসএস