জেলা প্রতিনিধি
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ ও হামের উপসর্গ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৭ শিশু। এর মধ্যে ওই দিনই নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১১ জন। মার্চ মাসজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯ জনে। এদের মধ্যে ৮২ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এরই মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে হার্টফেল ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর পরীক্ষায় তার শরীরে হামের লক্ষণও পাওয়া যায়। হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, মৃত শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং তার শারীরিক জটিলতা ছিল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, “হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও নার্সিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ঠান্ডা-জ্বর হলেই অনেকে হামের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, এতে হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ছে।”

শুধু সদর হাসপাতাল নয়, কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ জানান, ১৫ রমজান থেকে সেখানে হাম রোগী ভর্তি শুরু হয় এবং বর্তমানে অন্তত ৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন

এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। রামুর মিঠাছড়ির বাসিন্দা বিবি মরিয়ম জানান, তার যমজ সন্তানদের জ্বর ও সর্দি না কমায় শেষ পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। একইভাবে মহেশখালীর শাপলাপুরের রুমা আফরোজ বলেন, তার শিশুর অবস্থাও গুরুতর।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এমএম আলমগীর জানিয়েছেন, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ার ছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজে দেওয়া হয়। জেলায় প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় রয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত আছে। তবুও কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।”
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। এ রোগে প্রথমে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং নাক দিয়ে পানি পড়া দেখা যায়। জ্বরের কয়েকদিন পর শরীরে ফুসকুড়ি ওঠে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের তীব্রতা বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হাম হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শিশু অসুস্থ হলে দেরি না করে নিকটস্থ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়াতে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি/এসএস