জেলা প্রতিনিধি
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
বরগুনায় জ্বালানি তেলের সংকট এবং পাম্প থেকে কন্টেইনার বা বোতলে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় নদ-নদীতে মাছ শিকার করা ক্ষুদ্র জেলেরা। টানা প্রায় ১৫ দিন ধরে নদীতে যেতে না পারায় তাদের জীবিকা নির্বাহে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা ১১টায় এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং দ্রুত জেলেদের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতের দাবিতে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর স্লুইসগেট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় জেলেরা। এ সময় সারি সারি ডিজেলচালিত নৌকায় অবস্থান নিয়ে তারা তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ঈদের আগে থেকেই তারা পাম্প থেকে তেল পাচ্ছেন না। পাম্প কর্তৃপক্ষ কন্টেইনার বা বোতলে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় ছোট নৌকার জেলেরা চরম সংকটে পড়েছেন। ফলে কয়েকদিন আগ থেকেই মাছ শিকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং অনেক পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। দাদন ও এনজিও ঋণের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে জানা যায়, বাওয়ালকর এলাকায় বিষখালী নদীতে অন্তত ৮০টির বেশি স্যালো ইঞ্জিনচালিত ছোট জেলে নৌকা রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৬০ জন জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জ্বালানি সংকটের কারণে এসব নৌকা বর্তমানে খালে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে মাছ ধরতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জেলে পরিবারগুলো।
এই সংকট শুধু বাওয়ালকর এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। জেলায় জ্বালানি সংকটের কারণে ছয়টি উপজেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদী তীরবর্তী হাজার হাজার জেলে নৌকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
জেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪২১ জন। এরমধ্যে ২৭ হাজার ২৫০ জন সমুদ্রগামী জেলে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ছোট স্যালো ইঞ্জিনচালিত জেলে নৌকা রয়েছে।
স্থানীয় জেলে মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমাদের ছোট নৌকার জন্য পাম্প থেকে তেল পাওয়া যায় না। গাড়িতে করে যারা আসে তারা তেল পায়, কিন্তু আমরা নৌকার জন্য বোতলে তেল নিতে পারি না। ফলে নৌকা বন্ধ পড়ে আছে। মাছ ধরতে না পারলে আমাদের ঘরে খাবারও জোটে না।’
বাওয়ালকর এলাকার মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিজেলের অভাবে প্রায় ১৫০ জন জেলে এখন বেকার হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। জেলে কার্ড দেখিয়ে পাম্প থেকে তেল পাওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।’
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সমুদ্রগামী জেলেদের ট্রলারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ নদীতে চলাচলকারী ছোট স্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।’
প্রতিনিধি/এমআই