images

সারাদেশ

বরিশালে হামে ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত দুই শতাধিক

জেলা প্রতিনিধি

৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরিশালে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যাতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বিভাগজুড়ে ২০৬ জন শিশুর শরীরে অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল সোমবার জানান, আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আরও ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অঞ্চলটির প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে গত তিন মাসে রেকর্ড ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের বড় একটি অংশই শনাক্ত হয়েছে মার্চ মাসে, যার সংখ্যা ৮৯ জন। 

আরও পড়ুন—

সোমবার দুপুর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৩৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। এর মধ্যে গত শুক্রবার বানারীপাড়ার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং সোমবার সকালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরত কর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার মারা যাওয়া শিশুটির পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।

হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও টিকার প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়, তবে বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যা উদ্বেগের বিষয়। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যমান শয্যা সংকট ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্যমতে, ভোলা জেলায় টিকার কিছুটা সংকট থাকলেও বাকি পাঁচটি জেলায় টিকার কোনো ঘাটতি নেই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার জানান, তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে সাত দিন আগে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের থেকে আলাদা করে চিকিৎসা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, যে কোনো বয়সীর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। তিনি দ্রুত টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রতিনিধি/একেবি