জেলা প্রতিনিধি
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ জন নিহতের স্মরণে শোক ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজবাড়ী।
সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা, মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের শাস্তিসহ সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চালকদের অসতর্কতার কারণেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক দুর্ঘটনায় মূল্যবান প্রাণ ঝরলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে:
(১) দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পন্টুন ও সংযোগ সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
(২) ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
(৩) দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
(৪) ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের ওঠানামা ও বাস পন্টুনে রাখার ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি।
(৫) সড়ক আইন ও নিরাপত্তা বিধির পূর্ণ বাস্তবায়ন।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল, শিক্ষার্থী মাহিন শিকদার, তানভীর মাহাদী রলিভ, তাহসিন বিন আতিয়ার তামিম, রিয়াজ, বাস ডুবির ঘটনায় নিহত জ্যোৎস্না বেগমের ছেলে শিশু আলিফ মোল্লা, আলিফের নানি ও জ্যোৎস্না বেগমের মেয়ে শাহেদা বেগম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার নেতা হাসিবুল ইসলাম শিমুলসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে নিহত জ্যোৎস্নার ছেলে আলিফ বলেন, আমি আমার মা হত্যার বিচার চাই। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পদ্মা সেতু চাই।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ জনগণ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, যারা মানববন্ধন করেছেন তারা বলছেন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ভালো কোম্পানির গাড়ি চলে না। এই অভিযোগটা ভিত্তিহীন। কারণ রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন, শ্যামলী, হানিফ, এসবি, দিগন্তসহ ১০/১২টা কোম্পানির গাড়ি চলে। তবে সব বাস আমরা সব জায়গা দিয়ে চলতে দেই না। এটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলে। আমাদের গাড়িও অন্য রুটে চলতে দেয় না। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চালাই, তারাও আবার আমাদের রুট দিয়ে গাড়ি চালায়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ কয়েক দিনের উদ্ধার অভিযান শেষে ওই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিনিধি/এসএস