জেলা প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বহুল আলোচিত ‘অস্ত্রবাজ’ রিপন হোসেন (৩২) ওরফে রিপনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে যশোর জেলার নীলগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
রিপন হোসেন দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া নোড়ারচক এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় ৬টি, কালিগঞ্জ থানায় ১টি এবং ফরিদপুর ও যশোরের বিভিন্ন থানায় আরও মামলা রয়েছে, সব মিলিয়ে মোট ৯টি মামলা। এছাড়া তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল।
গ্রেফতারের পর রাত ৮টার দিকে দেবহাটা থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে যশোর থেকে থানায় নিয়ে আসে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দেবহাটার পারুলিয়ার খলিসাখালী এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ১৪০০ বিঘা বৈধ মালিকানাধীন চিংড়ি ঘের দখল, লুটপাট ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এতে প্রায় ৩০০ জনের বেশি জমির মালিক দীর্ঘদিন জিম্মি অবস্থায় ছিলেন।
পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় জমির মালিক ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে অবৈধ দখলদারদের প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং নিজেদের জমিতে পুনরায় চিংড়ি চাষ শুরু করেন। এসব জমির আয়ের ওপর নির্ভর করে স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, রিপন ও তার সহযোগীরা একটি সশস্ত্র চক্র গড়ে তুলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়লে তারা আত্মগোপনে চলে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির মাধ্যমে জমির মালিক, ঘের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, রিপনের সহযোগী, অস্ত্র ও মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং ভুয়া আইডি পরিচালনাকারীদের শনাক্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যান্য থানার মামলাগুলোর বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
খলিসাখালীর জমির মালিক ইকবাল মাসুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রিপন সশস্ত্রভাবে জমি দখল ও লুটপাট চালিয়ে আসছিল। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে তার সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মজিদ হাজি, আব্দুল আজিজ ও রুহুল আমিনসহ স্থানীয়রা রিপনের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
রিপনের গ্রেফতারের খবরে দেবহাটা উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিনিধি/এসএস