জেলা প্রতিনিধি
২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
শেরপুর শহরের একটি আবাসিক ভবনে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত রেখে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুতকৃত তেল সরিয়ে নেওয়া এবং ওই আবাসিক ভবনে তেল বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গোয়ালপট্টি এলাকার মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান।
অভিযোগে সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন যে, আগামী ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মজুত রাখা ডিজেল ও কেরোসিন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি আবাসিক ভবনে স্থায়ীভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন—
জানা যায়, তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে প্রান্তিক কৃষক ও দোকানদারদের কাছে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে আসছিল। তাদের খুচরা তেল বিক্রির লাইসেন্স থাকলেও নিয়ম লঙ্ঘন করে আবাসিক ভবনের নিচতলায় প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বড় ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। অভিযানকালে সেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল মজুত পাওয়া যায়। এছাড়াও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তারা প্রদর্শন করতে পারেননি।
অভিযানের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সেলিম রেজা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ২০ ধারায় জরিমানা করা হয়েছে এবং নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রতিনিধি/একেবি