images

সারাদেশ

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে গড়ে উঠেছে মোবাইল চুরির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক

জেলা প্রতিনিধি

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২২ এএম

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দিন দিন বেড়েই চলেছে মোবাইল চুরির ঘটনা। যাত্রীদের অসচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এখানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল চুরির ঘটনায় নিটন মিয়া, আকাশ মিয়া ও আলামিন মিয়া নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আটক তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করেছে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ।

ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া রাতে বিষয়টি জানিয়ে বলেন, বুধবার ওই তিনজনকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে স্থানীয় জনতা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে এই গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন। এই ভিড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরচক্রের সদস্যরা কখনো যাত্রী সেজে, কখনো হকার বা ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে প্লাটফর্ম ও ট্রেনের ভেতরে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে তারা যাত্রীদের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে মুহূর্তেই সটকে পড়ে।

আরও পড়ুন

বালুঘাট দখল নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেল বহরে অগ্নিসংযোগ 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুরি হওয়া মোবাইল ফোন আর উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। চোরচক্রটি অত্যন্ত কৌশলে কাজ করে এবং চুরি করা মোবাইল দ্রুত অন্যত্র পাচার করে ফেলে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি এমন একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

ট্রেন যাত্রী শিপন মিয়া জানান, টিকিট কাটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। আরেক যাত্রী আজমল আলী জানান, ট্রেনে উঠার সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তার হাতের মোবাইলটি কে যেন নিয়ে যায়, পরে আর খুঁজে পাননি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। তারা দদ্রুত রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া জানান, মোবাইল চুরি রোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই চোরচক্রকে দমন করা সম্ভব। অন্যথায় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রতিনিধি/এসএস