জেলা প্রতিনিধি
১৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ঈদের টানা ছুটি, মনটা যেন একটু অন্যরকম হয়ে ওঠে, ব্যস্ততা ছেড়ে কাছের মানুষদের সঙ্গে কোথাও হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে সবার। কিন্তু সময় আর দূরত্বের সীমাবদ্ধতায় অনেকেই দূরের গন্তব্য এড়িয়ে চলেন। পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা আর এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে, তাদের জন্যই পাহাড়ের রানী খাগড়াছড়ি হতে পারে একদম পারফেক্ট একটি ঈদ ভ্রমণ গন্তব্য।
আর এসবের মাঝে খাগড়াছড়িতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটক কেন্দ্র। এবার ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটবে এ পাহাড়ে। এমন প্রত্যাশায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে মোটেল, হোটেল, ঝুলন্ত সেতু ও পার্ক।

খাগড়াছড়িতে রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০ ফুট ওপরে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। দেখার মতো যা রয়েছে স্বর্ণের আদলে তোরণ, ল্যান্ডস্কেল গার্ডেনিং, গুহা, ঝুলন্ত সেতু, নন্দনকানন, খুমপুই রেস্টহাউজ, জেলা পরিষদ, হর্টিকালচার পার্ক, মায়ানি লেক, দেবতা পুকুর, রিসাং ঝরনাসহ অসংখ্য বিনোদনের ছোঁয়া সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। পাহাড়-ঝরনা, নীরবতার মেলবন্ধনে সাজানো এ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দিতে প্রস্তুত।

এই দিকে, জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দুই স্তরের টুরিস্ট পুলিশ কাজ করবেন বলে জানান খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশ জোন কার্যালয়।
গত বুধবার সকালে সরেজমিন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও জেলা পরিষদ পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের একটি ঝুলন্ত সেতুতে রং করা হয়েছে। সবকিছু ঢেলে সাজানো হয়েছে। পার্কের চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্তৃপক্ষরা।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ঈদের ছুটিতে সারাদেশ থেকে পর্যটকদের সমাগম হবে, তাই পার্কের আকর্ষণ বাড়ানোর পার্কের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার করেছি। এছাড়াও পার্কের সামনে বার্মিজ মার্কেট বড় আকারে করা হচ্ছে। ঈদের আগেই কাজ শেষ হবে।
জেলার প্রধান আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধোয়া-মোছা করে সাজিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে সুন্দর পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পারে তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পর্যটক মোটেল করপোরেশন ইউনিট ইনচার্জ ক্যাচিং মারমা জানান, ঈদে মোটেলের ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করি এইবার বিপুল সংখ্যা পর্যটকের সমাগম হবে। রুমগুলো নাজুক অবস্থায় ছিল। ঈদকে সামনে রেখে রুমগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তাই মোটেল সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বেশি ভাগ পর্যটক আসে বাইকে করে। তেল সংকট থাকলে পর্যটকরা আসতে পারবে না। না আসতে পারলে এর প্রভাব পড়তে পারে।

খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক (ইনচার্জ) জাহিদুল কবির (পিপিএম) বলেন, ঈদের দিন থেকে শুরু হবে পর্যটকদের সমাগম ঘটবে। এখানে ঈদের দিন পর তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যটকদের চাপ থাকতে পারে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও জেলা পরিষদ পার্কে সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশ থাকবে। দুই স্তরের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্পটে ঘুরার জন্য মোবাইল টিম থাকবে। ট্যুরিস্টদের কোনো সমস্যা হলে, তারা জানালে আমরা জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত তাৎক্ষণিকভাবে করব।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এছাড়াও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস