জেলা প্রতিনিধি
১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আক্তারুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় তারা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেকমরদ ইউনিয়নের ওয়ার্ড সভাপতি আক্তার হোসেন এর প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আক্তার হোসেন তার সমর্থকদের খবর দেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম, ফারুক, রুবেল এবং জামায়াত নেতা আক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় শনিবার (১৪ মার্চ) বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে জামায়াত নেতা রবিউল ইসলাম পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আক্তারুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ বলেন, জামায়াতের লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করে মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। এতে একজনের মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রেস সেক্রেটারি শাহাজালাল জুয়েল বলেন, আমাদের লোককে মাথা ফাটিয়ে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় গ্রেফতার দেখায়, বিষয়টি অমানবিক।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, উভয় পক্ষই থানায় মামলা করেছে। একজনকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস