জেলা প্রতিনিধি
১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ান। তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি।
শনিবার ১৪ দুপুর ১টার দিকে তৃতীয় দিনের অভিযানে সুগন্ধা পয়েন্টে একটি এক্সকেভেটর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযানের শুরুতেই ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মাইকিং করে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়ীরা দোকান না সরিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ির দু’পাশে শামুক-ঝিনুক, বার্মিজ পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের আচারের প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান রয়েছে। এসব দোকানের ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত কার্ড নিয়ে নিয়মিত রাজস্ব প্রদান করে দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকের কার্ডের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ সামনে রেখে তারা নতুন করে বিনিয়োগ করেছেন এবং এই ব্যবসার ওপর কয়েক হাজার পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। হঠাৎ উচ্ছেদ করলে তারা আর্থিকভাবে বড় সংকটে পড়বেন। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা ও বিকল্প ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এদিকে শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু না হলেও প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান জানান, ব্যবসায়ীদের অনুরোধ ও মানবিক দিক বিবেচনায় রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা খালি না করলে এরপরই পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত দুইদিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন।
প্রতিনিধি/এসএস