জেলা প্রতিনিধি
০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৫২ এএম
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দিপায়ন দত্ত মজুমদার ববিসহ মন্দিরের সেবায়েতরা।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের স্বত্ব দখলীয় দেবোত্তর সম্পত্তি ভুলক্রমে সরকারের নামে অর্পিত সম্পত্তি ‘খ’ গেজেটভুক্ত হয়। পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে হাসনাবানু নামে এক ব্যক্তি বিআরএস রেকর্ডভুক্ত করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে আবুল হাসেম, তার ছেলে মো. মাসুদ মিয়া, মাজাহারুল ইসলাম, এমদাদুল হক ও শহীদ মিয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
মন্দির পক্ষ জানায়, ভুল বিআরএস রেকর্ড বাতিল ও স্বত্ব ঘোষণার জন্য নেত্রকোণার জেলা জজ আদালতে দায়ের করা হয়েছে, বর্তমানে এটি বিচারাধীন। একইসঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ নভেম্বর আবুল হাসেমের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রসহ মন্দিরের পুরাতন ইটের সীমানা প্রাচীর ও টিনের ঘরে হামলা চালায় এবং দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে মন্দিরের আধিদার কোরবান আলীসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় মামলা রুজু হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। এছাড়া গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে আবারও কয়েকজন লোক দেবোত্তর সম্পত্তির কিছু বাঁশ কেটে নিয়ে যায় এবং অস্থায়ী ঘর ভাঙার প্রস্তুতি নেয় বলে অভিযোগ করেন সেবায়েতরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং চলমান দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তারা মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি ও সেবায়েতদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হাসেম বলেন, এটি মিথ্যা অভিযোগ। যে জমিটি নিয়ে বিরোধ সেটি মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নয়। এই সকল কাগজপত্র আমাদের নামে। যারা অভিযোগ করেছেন তারা যদি কাগজপত্রে প্রমাণ করতে পারেন যে, এটি মন্দিরের সম্পত্তি, তাহলে আমরা তা ছেড়ে দেব।
এ বিষয়ে শনিবার (৮ মার্চ) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেয শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি