images

সারাদেশ

পেঁয়াজ বীজ চাষে জহুরুল হকের বাজিমাত

জেলা প্রতিনিধি

০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

দূর থেকে দেখলে মনে হবে ফুলের সমারোহ। সারি সারি গাছে ফুটে থাকা সাদা ফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। আর এই ফুল থেকেই উৎপাদন হচ্ছে পেঁয়াজের বীজ। এমন বাগান করেই সফলতা পেয়েছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জহুরুল হক।

প্রথমবারের মতো শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি। তার এই সফলতা দেখে অনেক কৃষকই এখন পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষকদের উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগও।

জানা যায়, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ বীজ চাষ শুরু করেন মোহাম্মদ জহুরুল হক। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে ১৬০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার, বালাইনাশক এবং বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হয়েছে।

d219a45a-8d85-4e6d-9e7f-dbde2298143d

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় মোট ২ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতি একর জমিতে ২০০ থেকে ২৪০ কেজি পর্যন্ত বীজ উৎপাদন সম্ভব। তবে চলতি মৌসুমে ফলন কত হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবুও ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী।

কৃষক মোহাম্মদ জহুরুল হক বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর আমি ৩০ শতাংশ জমিতে ১৬০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ লাগিয়েছি। আমি আশা করছি প্রতি শতক জমি থেকে প্রায় ৪ কেজি করে পেঁয়াজ বীজ পাব। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ বীজ চাষে বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের কৃষক

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর উপজেলায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পেঁয়াজের খেতে ফুল এসেছে। এই সময় থেকে নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ দিন কৃষকদের হাতে পরাগায়নের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জমিতে পানির ঘাটতি না হওয়া এবং অতিরিক্ত সেচ না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

88eee36e-3e69-4ca0-90f0-385d87063732

ফুল ফোটার সময় পেঁয়াজের গাছ অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। এ সময় কোনো ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।

কৃষক জহুরুল হকের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

প্রতিনিধি/এসএস