শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের কৃষক

সুমন চন্দ্র, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের কৃষক

সকালের সূর্য যখন আকাশে ধীরে ধীরে ওঠে, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামের মাঠগুলো যেন সোনার সমুদ্রে পরিণত হয়। হালকা হাওয়ায় দুলতে থাকা সোনালি সূর্যমুখীর ফুলগুলো প্রতিটি যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা আর এই অপরূপ দৃশ্য দুইয়ে মিলিয়ে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কৃষকদের মুখে এখন হাসি ফুটছে। প্রতিটি ফুলের পেছনে লুকানো শ্রমের গল্প, আর সেই গল্পগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছে গ্রামের মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা।

মাঠের বাতাসে যেন এক ধরনের আনন্দ ভাসছে—সূর্যমুখীর সোনালি হাসি শুধু অর্থ নয়, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম এবারে তার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী বপন করেছেন। তার উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় কৃষকরা এবার ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। রবিউলের খেতে সূর্যমুখীর সোনালি হাসি যেন সবুজের সমুদ্রে স্বর্ণের রেখা খুঁজে বের করে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মিলিয়ে চার হেক্টর জমিতে ফুটেছে সূর্যমুখী। নয়ন জুড়ানো এই দৃশ্য শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করছে। প্রতিদিন ছবি ও সেলফির জন্য মানুষ ছুটে আসছেন, যেন সোনালি মাঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় এক ছোট্ট পর্যটন স্পট।

সুমি বেগম বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ চোখে পড়ল সূর্যমুখীর বাগান। সঙ্গে সঙ্গে থামলাম। সোনালি সূর্যমুখীর সমুদ্র যেন আমার চোখের সামনে ফুটে উঠল। প্রতিটি কোণই ছবি তোলার জন্য বিশেষ। সত্যিই অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা!

আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে রোদের হাসিতে মেতেছে সূর্যমুখী

বিউটি আক্তার যোগ করেন, গ্রামের এই মাঠের সৌন্দর্য মনকে শান্তি দেয়। সূর্যমুখী শুধু সুন্দর নয়, মানুষের মধ্যে আশা আর আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। পরিবারসহ ঘুরতে আসতে খুব ভালো লাগল।

কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ফুল প্রেমীদের মতে সূর্যমুখীর সোনালি হাসি মনকে প্রফুল্ল করে। আমি গত বছর প্রাথমিকভাবে চাষ করেছিলাম। এবার একটু বেশি জমিতে লাগিয়েছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো লাভ হবে। উপজেলা কৃষি অফিসের সব ধরনের সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ আমাদের চাষে অনেক সাহায্য করছে।

81d41cb3-2caa-4f27-9234-628b803bf08a

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে সূর্যমুখী হতে পারে জেলার সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। ভোজ্য তেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন। বিরল উপজেলায় এই মৌসুমে মোট চার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে।

সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকা এই সোনালি ফুলগুলো শুধু অর্থের হিসাব দেখাচ্ছে না, মানুষের মুখেও হাসি ফোটাচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে চাষির সংখ্যা, প্রতিটি ফুল যেন দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার বার্তা। দিনাজপুরের কৃষি মাঠে এখন সূর্যমুখীই নতুন আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর