জেলা প্রতিনিধি
০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চা বিক্রেতা জোবায়ের তার দোকানের সোফার পিছনে একটি শপিং ব্যাগ ভর্তি দেড় লক্ষাধিক টাকা পান। পরে সেই টাকার মালিক খুঁজতে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপর মালিক না পাওয়ায় মাইকিং করেন। ২২ দিন পরে টাকার মালিককে খুঁজে পাওয়ায় সেই টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সোমবার বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে মালিকের কাছে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
চা বিক্রেতা যোবায়ের হোসেন বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি আমার দোকানের সোফার পিছনে একটি শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগ খুলে তার মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা দেখতে পাই। তখন রাত ১১টা বাজে। এরপর থেকে টাকার মালিককে পেতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই এবং পাশের দোকানদার ও লোকজনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও খুঁজে না পাওয়ায় পরের দিন থেকে নিজের টাকা খরচ করে টাকার মালিককে খুঁজতে মাইকিং করা হয়। এভাবেই অনেকদিন কেটে যায় কিন্তু টাকার মালিককে পাওয়া যায় নাই। এরপর প্রশাসনসহ অনেককে বিষয়টি অবহিত করি। আমার ইচ্ছে ছিল, যে-কোনো উপায়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া।
তিনি বলেন, এভাবে আমার চেষ্টা চলতে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লোক মারফতে জানতে পারি, ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের শাহমুল্লুকদি গ্রামের মিজানুর রহমান মোল্লা নামের এক ব্যক্তির টাকা হারিয়ে গেছে। ওপেনহার্ট সার্জারি করা এ বৃদ্ধ কোথায় টাকা ফেলেছেন তা মনে নাই। তার বাড়িতে গিয়ে তার কথা শুনে হুবহু মিলে যায়। তখন আমি নিশ্চিত হই, এ টাকাগুলো ওই বৃদ্ধর। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে তার হাতে টাকাসহ ব্যাগ তুলে দেই।
যোবায়ের হোসেন আরও বলেন, রমজানের দিনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমি এ দায় থেকে মুক্তি পেয়েছি। মনের দিক দিয়ে বিশাল আনন্দ অনুভব করছি।
টাকার মালিক বৃদ্ধ মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, এ টাকাটা নিয়ে আমি হার্টে রিং পরানের উদ্দেশ্যে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ডাক্তার সাহেব হঠাৎ দেশের বাইরে যাওয়ায় আমি ফিরে আসি। আমাকে গাড়িতে পৌরসভার সামনে নামিয়ে দেয়। আমি চা খাওয়ার জন্য জুবায়েরের চায়ের দোকানে বসে চা খেয়ে বাড়ি চলে আসি। টাকার কথা আর মনে নাই। কোথায় ফেলেছি একথাও স্মরণ নাই। তবে কত টাকার কয়টি নোট এসব আমার মনে আছে। চা বিক্রেতা একজন মহৎ লোক। তার প্রমাণ তিনি দেখিয়েছেন। জগতে এমন ভালো লোকের জন্যই দুনিয়া টিকে রয়েছে। চা বিক্রেতাকে মাইকিং করাসহ যে খরচটুকু করেছেন সেই টাকাও তিনি নেন নাই। আমি তাকে পুরস্কৃত করতে চেয়েছি, তাও তিনি গ্রহণ করেন নাই।
ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম জানান, বর্তমান যুগে একজন চা বিক্রেতা টাকা ফেরত দিয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনেক কষ্ট করে টাকার মালিককে খুঁজে বের করে আমার দপ্তরে নিয়ে এসেছেন। আমি দুজনকে ফুল দিয়ে বরণ করে আমার দপ্তরে বসে টাকা ফেরত দিয়েছি।
প্রতিনিধি/টিবি