জেলা প্রতিনিধি
০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া-ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় গবরা নদীর ওপর নির্মিত হয়নি একটি সেতু। ফলে সীমান্তবর্তী অন্তত সাত থেকে দশটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া-ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় প্রবাহিত গবরা নদীর কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দর্জিপাড়া, কানকাটা, শারিয়ালজোত, প্রেমচরণজোত, আজিজনগর, ডাঙ্গাপাড়া, কলেজপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। একটি সেতুর অভাবে এসব গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন নদী পার হয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাটবাজারে যেতে হচ্ছে।
নদীর ওপারে অবস্থিত পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পার হতে হয়। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ফলে শিক্ষা ও যোগাযোগ-এই দুই মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক পথে চলাচল করতে হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। কৃষি কাজ, চা বাগান, ছোট শিল্পকারখানা ও দৈনন্দিন জীবনে এই নদী পারাপার তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিয়া হোসেন বলেন, চার-পাঁচটি গ্রামের শতাধিক শিশু প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুলে যায়। বর্ষাকালে খুব ঝুঁকি নিয়ে আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই। ৭-৮ কিলোমিটার ঘুরে যাওয়া সম্ভব না। তাই দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাই।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, বর্ষাকালে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নদী পার হওয়া খুব কষ্টকর। একটি সেতু হলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হতো।
স্থানীয় শেখ ফরিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই বলে ব্রিজ হবে, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। অনেক সরকার এল গেল, কিন্তু আমাদের কপালে ব্রিজ জুটল না।
শিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার মিম জানায়, নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। বর্ষার সময় পানি বেড়ে গেলে ভয় লাগে। যদি ব্রিজ থাকতো তাহলে এই কষ্ট হতো না।
জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশ ও শিক্ষাকর্মী মাহমুদুল ইসলাম মামুন বলেন, এই এলাকাটি শিক্ষা, কৃষি ও শিল্প সম্ভাবনাময় হলেও একটি সেতুর অভাবে মানুষকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে নদী পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এটি স্পষ্ট বৈষম্য। দ্রুত সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করিম সিদ্দিকী জানান, দর্জিপাড়া-ডাঙ্গাপাড়ায় সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি। জেলা প্রশাসক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী বলেন, গবরা নদীতে ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু জানান, আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। একটি সেতু অত্যন্ত জরুরি। ইতোমধ্যে রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক স্যার আশ্বস্ত করেছেন, আশা করছি দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
প্রতিনিধি/এসএস