images

সারাদেশ

চাচার লালসার শিকার ভাতিজি, বাধা দেওয়ায় খালাকেও হত্যা

জেলা প্রতিনিধি

০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

দেখতে সুন্দর আর দাদির সঙ্গে একা বসবাসের কারণে বাবার আপন খালাতো ভাই শরিফুল ইসলামের কু-নজরে পড়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদীতে খুন হওয়া কিশোরী জামিলা খাতুন। আগের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জামিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অংশ হিসেবে জামিলার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে শরিফুল। এসময় বাধা দেওয়ায় জামিলার দাদি ও ঘাতক শরিফুলের খালা বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় জামিলাকে মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের সরিষা খেতে নিয়ে যায়। এর মধ্যেই জামিলা মারা যান। এ সময় মরদেহেই ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় ঘাতক শরিফুল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের একদিন পর রোববার (১ মার্চ) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।

ঘাতক শরিফুল ইসলাম (৩৫) ঈশ্বরদীর কালিকাপুরের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং নিহত সুফিয়া খাতুনের বড় বোন কুরশি খাতুনের ছেলে। পেশায় ট্রাকচালক এবং মাদকাসক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন

দাদি-নাতনির খুনের ঘটনায় মামলা, আজই রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস পুলিশের

তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে খালা সুফিয়া খাতুন, জামিলা খাতুনের সঙ্গে আসামির আচরণ এবং প্রতিবেশীর তথ্যের ভিত্তিতে তাকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ সে হত্যার কথা স্বীকার করে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ আসর তাদের ভবানীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এঘটনায় ঘাতক শরিফুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন

মাধবদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৭ আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে

এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে দাদীর রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির গেটে এবং নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ বাড়ির পাশের সরিষার খেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে৷

নিহতরা হলেন, ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)

স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় স্থানীয়রা৷ পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে বাড়িতে চলে যান তারা। পরে সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার খেতে তার মরদেহ পায় তারা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

পাবনায় দাদিকে হত্যা ও নাতনিকে অপহরণের পর মরদেহ উদ্ধার

নিহতের আত্মায়-স্বজনরা জানান, জামিলা খাতুনের বাবার সঙ্গে মায়ের অনেক আগেই ডিভোর্স হয়েছে। তিন বোনের মধ্যে জামিলা সবার ছোট। ছোট থেকেই জামিলা দাদির সঙ্গে থাকতো। বাবা জয়নাল খাঁ বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়িতে দাদি সুফিয়া খাতুন এবং নাতনি জামিলা একাই থাকতেন। জামিলা কোরআনের হাফিজিয়া পড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী একটি দাখিল মাদরাসায় ৯ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।

প্রতিনিধি/এসএস