জেলা প্রতিনিধি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
রাজধানীতে একটি বাসায় রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের আগুনে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সোনিয়া আক্তার পিংকি (৩০) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। এ সময় তার স্বামী, তিন বয়সী ছেলে ও ভাইসহ তিনজন দগ্ধ হন। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরি রান্নার সময় ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোনিয়া আক্তার পিংকি মোহনগঞ্জের মামুদপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে এবং পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরির বোয়ালি এলাকার রোমান শেখের স্ত্রী। তিনি মামুদপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আহতরা হলেন- রোমান শেখ (৩৭), তার ছেলে মায়ান (৩) ও সোনিয়ার ছোট ভাই রিয়াদ হাসান ওরফে অপু (১৯)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে পিংকি ও রোমান শেখের বিয়ে হয়। তাদের মায়ান নামের একটি তিন বছরের ছেলের সন্তান রয়েছে। রোমান শেখ ঢাকায় চাকরি করেন। রমজান শুরু হওয়ার পর স্কুল বন্ধ থাকায় পিংকি তার ভাই রিয়াদ ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় স্বামীর কাছে যান। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সেহরি রান্নার সময় পিংকি গ্যাসের চুলা ধরাতে যান। তবে আগে থেকে গ্যাসের লাইন লিকেজ হয়ে পুরো ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে ছিল। ম্যাচ জ্বালাতেই পুরো ঘরে আগুন লেগে যায়। এতে ঘরে থাকা স্বামী-ভাই ও শিশু সন্তান দগ্ধ হয়। আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পিংকিকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য তিনজনকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আজ বিকেলে পিংকির মরদেহ তার বাবার বাড়ি মোহনগঞ্জের মামুদপুরে নিয়ে আসা হয়। পরে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, 'সোনিয়া জান্নাত একজন ভালো শিক্ষিকা ছিলেন। তার এমন অকাল মৃত্যু আমাদের কখনো কাম্য ছিল না।
এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে বের হয়ে পুরো কক্ষে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। দরজা জানালা বন্ধ থাকায় তা আর বের হতে পারেনি। চুলায় আগুন ধরানো সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘরে আগুন জ্বলে উঠে। এতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া স্কুলশিক্ষিকা পিংকির মরদেহ তার বাবার বাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গুরুতর আহত অন্য তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস