২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১ এএম
‘আমের রাজধানী’ খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জুড়ে এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। এ বছর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার অধিকাংশ আমবাগান দ্রুত মুকুলিত হয়েছে।
চাষিরা জানিয়েছেন, এ বছর মাঘ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাগানগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করে। গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এখন অধিকাংশ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। বর্তমানে মুকুল রক্ষায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ গাছে ইতোমধ্যে মুকুল দেখা গেছে। কৃষি বিভাগের আশা, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত এমন আবহাওয়া বজায় থাকলে প্রায় সব গাছই মুকুলে ভরে উঠবে। কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশায় চাষিরা এখন বাগানে নিরলস কাজ করছেন। শীতের বিদায় আর বসন্তের শুরুতে জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানগুলো যেন সোনালি মুকুলে সেজে উঠেছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঠিক সমন্বয়ের কারণে এবার মুকুল আসার হার সন্তোষজনক। তবে শেষ পর্যন্ত ফলন কেমন হবে তা নির্ভর করছে আবহাওয়ার ধারাবাহিকতা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতির ওপর।
আরও পড়ুন—
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আম। এখানে ফজলি, ক্ষীরসাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও আশ্বিনাসহ প্রায় দেড় শতাধিক জাতের সুস্বাদু আম উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহসহ বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। জেলার অর্থনীতিতে আমের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর ফলন ভালো হলেও পাকার মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক আম নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ফলে চাষিরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার তারা বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন। নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগ-বালাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ব্যবহার করছেন তারা।
তবে চাষিদের অভিযোগ, এ বছর সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের আমচাষি শামিম বলেন, ‘এবার মুকুল আসার জন্য আবহাওয়া বেশ ভালো। তবে গত বছরের ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। যদি আবহাওয়া এমন থাকে, তবে ভালো ফলন আশা করা যায়।’
মহারাজপুর এলাকার আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আম চাষে আমাদের প্রচুর খরচ হয়, কিন্তু ধান বা অন্য ফসলের মতো আমরা সরকারি কোনো প্রণোদনা পাই না। সরকার যদি আমচাষিদের জন্য বিশেষ ঋণ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করত, তবে আমরা আরও উৎসাহিত হতাম।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, ‘জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি আমগাছ রয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ টন। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’
আরও পড়ুন—

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুকুল আসার পরবর্তী সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিরিক্ত কুয়াশা বা হঠাৎ বৃষ্টি মুকুলের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা জরুরি। সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/একেবি