শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বারোমাসি ‘কাটিমন’ আম চাষে সফল মমিনুল

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বারোমাসি ‘কাটিমন’ আম চাষে সফল মমিনুল

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একই গাছে কোথাও মূকুল, কোথাও পাকা আম। বাগানের চারপাশে তাকালে চোখে পড়বে থোকায় থোকায় বিভিন্ন আকারের আম ঝুলছে। এই কাটিমন আম দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের লক্ষ্মিপুর গ্রামের কৃষক মমিনুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন।

বারোমাসি কাটিমন আম চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক মমিনুল ইসলাম। তার সফলতা দেখে কাটিমন আম চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। কাটিমন আম বাগান গড়ে তুলতে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জানা যায়, দিনাজপুরের বিরলে বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি কাটিমন আমের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষক মমিনুল ইসলাম। উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের লক্ষ্মিপুর গ্রামে তিনি ২০১৭ সালে দুই একর জমিতে এই বাগান গড়ে তোলেন। বাগান শুরু করার দুই বছরের মাথায় কিছুটা ফলন আসতে শুরু করে। তবে গত তিন থেকে চার বছর যাবৎ ব্যাপক ফলন আসছে এবং বিক্রি শুরু করেছেন। এই বাগানের প্রায় এক হাজার আম গাছ রয়েছে। প্রায় সব গুলোতেই বেশ আশানুরূপ ফলন এসেছে। অসময়ে এই কাটিমন আম প্রতি কেজি বিক্রি করছেন তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকা দামে। কাটিমন আম সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কৃষক মমিনুল ইসলামের বাগানে জৈবিক পদ্ধতিতে আম উৎপাদন হচ্ছে। বছরে তিন থেকে চারবার তিনি এই বাগান থেকে আম সংগ্রহ করেন।

পাশের গ্রামের কৃষক মালেক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি পাশের গ্রাম থেকে মমিনুল ভাইয়ের আম বাগান দেখতে এসেছি। ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম যে ধান, গম, ভুট্টার চেয়ে কাটিমন আমে লাভ বেশি হচ্ছে। আমিও আগ্রহী হয়েছি এবং ভাইয়ের কাছে পরামর্শ নিচ্ছি যাতে আমিও কাটিমন আমের বাগান করতে পারি।’

বিরল উপজেলার যুবক বিপ্লব রায় ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউটিউবে এবং মানুষের কাছে শুনে এসেছি যে বারোমাসি আম পাওয়া যায়। আমি আজ নিজে এ বাগানটি দেখতে আসলাম। বাগানটি দেখে আমার ভালো লাগলো।’

কৃষক মমিনুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘অন্যান্য ফসলের তুলনায় আমের বাগান অনেক লাভজনক। সবচেয়ে বেশি লাভ হচ্ছে বারোমাসি কাটিমন আমের বাগান থেকে।’

তিনি আরও বলেন, তার বাগানে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে বাগান পরিদর্শন করতে আসছেন এবং কাটিমন বাগান করার জন্য অনেক কৃষক তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছেন।

bdd-e

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, এই অঞ্চলের মাটি কাটিমন আমের জন্য বেশ উপযোগী। এই বাগান বাড়ানোর জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তিনি আরও বলেন, বিরল উপজেলায় প্রায় ১০ একর জমিতে বারোমাসি কাটিমন আমের বাগান রয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর