জেলা প্রতিনিধি
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
প্রকৃতিতে বইছে ফাগুনের হাওয়া। বসন্তের এই ফাগুন হাওয়ায় স্বস্তির বদলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রংপুর নগরীর বাসিন্দারা। দিন-রাত সর্বত্র মশার কামড়ে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খালকে ঘিরে মশার বংশবিস্তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকেল থেকেই মশার উৎপাত শুরু হয় বাসাবাড়িতে। অফিস আদালতেও মশার উপদ্রবের কমতি নেই। নগরবাসী মশায় অতিষ্ঠ হলেও ড্রেন পরিষ্কার কিংবা মশা নিধনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)।
নগরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি সংস্কার ও পরিষ্কার না করার কারণে পানি স্থির হয়ে আছে। এতে খালগুলো মশা উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই মশা ঝাঁকে ঝাঁকে ঘরে-বাইরে আক্রমণ করছে। অনেক এলাকায় স্প্রে ও কয়েল ব্যবহার করেও মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না মশার উপদ্রব।

স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের শ্যামা সুন্দরী খালটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে নগরীর ধাপ পাশারীপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় খালটি নাব্যতা যেমন হারিয়ে ফেলেছে, তেমনি মশার বংশ বিস্তারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেডিখাল সংলগ্ন বাসিন্দা আব্দুল মমিন, উসমান গনিসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেডি খাল পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে শ্যামাসুন্দরীর চেয়ে বেশি মশা জন্ম নিচ্ছে এই খালে। এছাড়া নগরীর ড্রেন, পুকুর-জলাশয়গুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সেখানেও উৎপাদন মশা জন্ম নিচ্ছে। দিনে-রাতে সর্বত্র মশার অত্যাচারের কারণে মশাবাহিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মশার কারণে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করছেন।
নগরীর শালবন এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির মানিক বলেন, রংপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছি। এত মশা এই শহরে আর দেখিনি, যা গত কয়েকবছর ধরে দেখছি। এবারে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। দিনে-রাতে সব সময় মশা গান শোনাচ্ছে আমাদের। বিকেলের পর জানালা খোলা মুশকিল হয়ে পরেছে। সন্ধ্যার পর পাঁচ মিনিটের জন্যও যদি ঘরের জানালা খোলা হচ্ছে, সব মশা এসে ঢুকে পড়ছে।

নগরীর কলেজ রোড এলাকার কামরুল হাসান টিটু বলেন, মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ আমরা। বাচ্চারা মশার কারণে পড়াশোনা করতে পারছে না, সারাক্ষণ কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। কয়েলের ধোঁয়াতেও শ্বাসকষ্টসহ বাচ্চাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। নিয়মিত ও ভালোভাবে ড্রেন পরিষ্কার না করা ও মশার জন্য যে স্প্রে করে সেটা অকার্যকর যার কারণে মশার অত্যাচার বেড়েছে।
নগরীর ধাপ এলাকার আমানত আলী বলেন, সিটি করপোরেশনে মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকার কারনে কোনো রকম তদারকিও নেই। নগরীতে মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম চলছে কি না তা বুঝতে পারছি না। আমাদের এলাকায় শেষবার কবে মশক নিধন করেছে, তা মনে করতে পারছি না। তাছাড়া শ্যামা সুন্দরী খাল অপরিষ্কার থাকার কারনে মশা তৈরির কারখানা হয়েছে। শ্যামা সুন্দরী খাল পরিষ্কার থাকলে মশার উপদ্রব কমতো।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাকির হোসেন বলেন, মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেলেও কয়েল ব্যবহার করা শরীরের জন্য খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। কয়েলের থেকে মশারি ব্যবহার করাই ভালো। বদ্ধ ঘরে কয়েলের ধোঁয়া শিশুদের নিঃশ্বাসে কষ্ট সৃষ্টি করে। তাছাড়া নিম্নমানের কয়েলের রাসায়নিক ধোঁয়া সকলের পরিহার করা উচিত। নাগরিক হিসেবে বাড়ির আশে পাশে পানি জমে থাকলে সেই পানি পরিষ্কার করতে হবে। বাড়ির আশে পাশে ময়রা আবর্জনা থাকলেও মশার বংশ বিস্তার ঘটে। এজন্য নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা প্রধান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার মশা বেড়েছে। তাই এবারে মশক নিধনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার লিটার ওষুধ কেনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৮০টি নতুন ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। এছাড়াও ৬৬টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনও কেনা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে ব্যাপকভাবে মশক নিধন অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না। তারপরও ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পুরোপুরি মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৩টি ওয়ার্ডেই মশা নিধন করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি