images

সারাদেশ

বোমা মামলার আসামিকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার, বিএনপি প্রার্থীকে নিয়ে সমালোচনা

জেলা প্রতিনিধি

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল (হাতবোমা) তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান ও পলাতক আসামির সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারী কান্দি এলাকায় একটি বসতঘরে ককটেল বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জাজিরা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে।

ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বিলাসপুর ইউনিয়নের গনি ব্যাপারীর ছেলে নুরুল ইসলাম ব্যাপারীকে। এছাড়া তার আপন ভাই ব্যাপারী ব্যাপারী, ইদ্রিস ব্যাপারী এবং বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ মামলাটিতে ছিদম ব্যাপারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করলেও প্রধান আসামি নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার পর আত্মগোপনে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নুরুল ইসলাম ব্যাপারী প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন

বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাঈদ আহমেদের নির্বাচনি প্রচারণায় পলাতক আসামি নুরুল ইসলাম ব্যাপারীর প্রকাশ্য উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে প্রার্থীর সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় এবং এক পর্যায়ে প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দিতেও দেখা যায়।

এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকের প্রশ্ন— বিস্ফোরক মামলার পলাতক আসামি কীভাবে একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন? এতে প্রার্থীর রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে ৭টিসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামার মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিলাসপুর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় নুরুল ইসলামের প্রভাব অনেক। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছে, ভোটের পরিবেশ নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন বলেন, বোমা মামলার পলাতক আসামির নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, গুরুতর মামলার পলাতক আসামির সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্যই নয়, বরং পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জাজিরায় শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

প্রতিনিধি/এসএস