উপজেলা প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এটি কেবল একটি ক্ষমতার পালাবদল নয়; একটি চেয়ারের কোনো পরিবর্তন নয়। এটি হচ্ছে আগামীর বাংলাদেশের একটি রূপরেখা। আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে; আমাদের রাষ্ট্রের কোথায় কোথায় আঘাত আছে; কোথায় কোথায় পচে গিয়েছে, সে বিষয়গুলো কীভাবে মেরামত করা হবে; সে মেরামতের জন্য আমার দেশের নাগরিক তারা মতামত প্রকাশ করবেন। আর আমরা তাদের সে মতামত যাতে প্রকাশ করতে পারেন সে দায়িত্বে আমরা সবাই নিয়োজিত হয়েছি।’
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে মিরসরাই কলেজ মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে মিরসরাই উপজেলার ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে, সুযোগকে কাজ লাগাতে হবে। সে সুযোগকে কাজ লাগাতে সাহস ও প্রত্যয় রাখতে হবে। দেশকে দেওয়ার প্রত্যয় রাখতে হবে। সারা পৃথিবী যেমন একটি সিস্টেমে চলে আমার দেশও সে সিস্টেমে চলবে। কেউ সে সিস্টেমকে চালাবে না, এটা আমরা প্রত্যাশা করি। এটি হচ্ছে আমাদের দেশ প্রেমের জ্বলন্ত পরীক্ষা। আমরা সবাই দেশ প্রেমের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি। এ দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে তার ভোটটা সে দিতে পারবে। আমরা সারা জীবন রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা নেই; রাষ্ট্রের মানুষ তার আশা পূরণ করতে চায়, মানুষের সে প্রত্যাশা পূরণের একটা সুযোগ এসেছে। সেটা করে দেখাতে হবে আমরাও পারি। বিশ্ব তাকিয়ে আছে আমরা কি আবারও পূর্বের ন্যায় আবারও এই কর্মযজ্ঞ কালিমালিপ্ত হবে। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। আমরা কি আমাদের মেরুদণ্ড সোজা করতে পারব না। আমরা কি নিরপেক্ষ থাকতে পারব না। আমরা তো মানুষ হিসেবে একবারই পৃথিবীতে এসেছি। মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে এসেছি। আল্লাহ শক্ত একটি মেরুদণ্ড দিয়েছে। শক্ত যে দিয়েছে সেটা প্রমাণ করতে হবে। ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন করা যাবে না।
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা প্রত্যেকটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা লাগাচ্ছি। পুলিশ যারা ডিউটি করবেন তাদেরও বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। আমরা সবকিছু মনিটর করব। সবকিছু মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকবে। আমরা চাইনা আপনারা আবারও আপনাদের কোন দায়িত্ব কর্তব্য, অথবা কোন আচরণ আবার কালিমালিপ্ত হোক এটা আমরা চাই না। এবারের নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের অনেক প্রত্যাশা। সে প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারো প্রতি ভালোবাসা থাকতেই পারে; যখন দায়িত্বের পবিত্রতা আসে; দেশ প্রেম তখন ভালোবাসা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। আপনার সুযোগ হচ্ছে দেশকে ভালোবাসা। আমরা প্রত্যাশা করি আপনাদের মধ্যে সে ধরনের কোনো আচরণ পরিলক্ষিত হবে না।’
গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমার দেশের অনেক নাগরিক আছেন যারা গণভোটের বিষয়ে জানবে না, তাদের হয়ত গণভোটের বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা থাকবে না। আপনারাও তাদের সঙ্গে পজিটিভ আচরণ করবেন। তাদের যতটুকু সম্ভব বুঝানোর চেষ্টা করবেন। আপনারা দায়িত্বে থেকে সেটি করবেন।’
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার কাজে যারা আছেন, তারা পবিত্র দায়িত্বটি যথাযথভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সে প্রত্যাশা করি। আমাদের এখানে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, আমার কথা একটাই, ক্রাইম যে করবে, সে যেন পার পেতে না পারে। আমরা যেন তাকে সে সুযোগ না দিই। এ বিষয়ে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেসপন্স কুইক হয়। সেটা আমার বিনীত অনুরোধ। আমাদের কারো মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। সেটা থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচনকালীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা কি দক্ষতা দেখাতে পারব, নিরপেক্ষতা দেখাতে পারব, আমরা জাতির কাছে আগের যে কলঙ্ক সেগুলো মুছে ফেলতে পারব, উপস্থিত সবাই বলেন- হ্যাঁ। এসময় ডিসি বলেন, আমাদেরকে সেটি করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি আপনারা যে ওয়াদা দিয়েছেন, সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, নাগরিকদের যে প্রত্যাশা তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবো।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসার সোমাইয়া আক্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিরসরাই ক্যাম্প কমান্ডার রেজাউল করিম রেজভী, মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, নির্বাচনে মিরসরাই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ রয়েছেন। পোস্টাল ব্যালট রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৫৭২। পোস্টাল ছাড়া ভোটার হলো ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০২টি ভোট। মোট কেন্দ্র ১০৬টি, মোট বুথের সংখ্যা ৭১৮। ১০৬টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। মিরসরাই থানায় ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। জোরারগঞ্জ থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার ১১২ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৭৩৬ জন, পোলিং অফিসার ১৫০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জেলার সব নির্বাচন কেন্দ্রের জন্য ৯৯৯টি বডি ওর্ন ক্যামেরা সংগ্রহ করেছি। এগুলো অফলাইন ও অনলাইন ক্যাটাগরিতে কাজ করবে। এজন্য পৃথক ডগ স্টেশন থাকবে। কোনো কার্যক্রমই মনিটরিংয়ের বাইরে থাকবে না। নির্বাচনের প্রাথমিক সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। থানা এলাকায় অফিসার ইনচার্জরা কাজ করছেন। ভোট গ্রহণের দিনও পুলিশের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সক্রিয় উপস্থিতি থাকবে। প্রত্যেকটি নির্বাচনি এলাকার জন্য ন্যূনতম একজন এএসপি বা এডিশনাল এসপি নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যাহত না হয় সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর আছে। মাঠ থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এ তথ্যগুলো আমার রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনি কাজে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের কাছে সরবরাহ করছি।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, একটি দীর্ঘ বিপ্লব সংগ্রামের পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা যদি সঠিক না হয়, সত্যি এই দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে আপনারা ঠিকই অবগত আছেন। আমি আপনাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করব, আইন এবং বিধির আলোকে আপনি যেকোনোভাবে নিজের সবটুকু দিয়ে সঠিকভাবে নির্বাচনটি করুন।
প্রতিনিধি/এসএস