images

সারাদেশ

দিনাজপুরে ‘কৃষি খামারি অ্যাপ’ ব্যবহার, আলু চাষে আধুনিক বিপ্লব

জেলা প্রতিনিধি

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

দিন দিন দিনাজপুরে কৃষি খামারি অ্যাপসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষিকাজ সহজ ও লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত তরুণরাও এখন কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। উৎপাদন খরচ কমছে, ফলন ও ফসলের গুণগত মান বাড়ছে—ফলে কৃষি এখন কেবল কর্মসংস্থান নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

বড়াইল বনকালি এলাকার যুবকেরা সমবায় উদ্যোগে কৃষি খামারি অ্যাপস ব্যবহার করে আলু চাষ করছেন। অ্যাপসের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ, উন্নত বীজ ব্যবহার এবং সীমিত কীটনাশক ও জৈব সার ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

বসন্ত রায় স্মার্টফোনে অ্যাপস ডাউনলোড করে ৩৩ শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি জানালেন, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ কম হয়েছে। জমির অবস্থা ভালো, ফলনও আশা করছি আগের চেয়ে বেশি হবে।

7b57afd5-6d09-4b1b-81a1-08144c6a8f6b

রাখাল চন্দ্র রায় জানান, এলাকার ১৫ জন যুবক একত্রিত হয়ে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে সমবায় ভিত্তিতে আলু চাষ করেছেন। তারা একই সময়ে আলু রোপণ ও অ্যাপস অনুযায়ী সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। আলুর বয়স এখন প্রায় ৪৫ দিন, আর ২০-২৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন সম্ভব।

আরও পড়ুন

নওগাঁয় পলিনেট হাউস ঘিরে কৃষিতে নতুন স্বপ্ন

দীপু রায় বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা কৃষিকাজ করলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন না। এখন আমি আমার বাবাকে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি। বিঘাপ্রতি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে।

সদরের চেহেল গাজী ইউনিয়নের ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেশবন্ধু মহন্ত বলেন, এলাকায় অধিকাংশ চাষি শিক্ষিত ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হওয়ায় কৃষি খামারি অ্যাপস দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে এই এলাকায় প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে অ্যাপস ব্যবহার করে আলু চাষাবাদ হচ্ছে। এতে রোগবালাই কমেছে, জমির উর্বরতা বেড়েছে এবং চাষিরা জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।

57370114-5630-4bc7-96c1-a022de61d8ed

দিনাজপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার জানান, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় সাড়ে চারশ হেক্টর জমিতে কৃষি অ্যাপস ব্যবহার করে আলু চাষ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার রাসায়নিক সার কম ব্যবহার হয়েছে এবং সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অ্যাপসের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারের ফলে কীটনাশকের প্রয়োজনও কমছে এবং ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি জমির আলুর খেত পরিদর্শন করতে এসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, সরকার কৃষি খামারি অ্যাপস উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক করতে চায়। চাষিরা এই অ্যাপসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলে উৎপাদন খরচ কমবে, জমির উর্বরতা বাড়বে এবং অধিক ফলন নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামগঞ্জের শিক্ষিত চাষিদের মধ্যে এই অ্যাপস ছড়িয়ে দেওয়া গেলে দেশের কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

প্রতিনিধি/এসএস