নওগাঁয় কৃষিতে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি পলিনেট হাউস। আধুনিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও চারা উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন কৃষকরা। এই পদ্ধতিতে কম খরচে লাভবান হচ্ছেন তারা। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে অন্যদিকে স্থানীয়দের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে কাজের। বর্তমানে এই পলিনেট হাউস ঘিরে কৃষিতে নতুন স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও শাকসবজি ও চারার ক্ষতি হয় না। প্রয়োজন হয় না সার বা কীটনাশকের। শীতকালীন সবজিগুলো যেমন সহজেই গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করা যায়, তেমনি গ্রীষ্মকালের সবজিও শীতে উৎপাদন করা যায়। সারাবছরই চাহিদা থাকে চারার। সবজিও বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলায় পাঁচটি উপজেলার সাতজন কৃষককে দেওয়া হয়েছে পলিনেট হাউজ। এরমধ্যে সদর উপজেলায় একজন, বদলগাছী উপজেলায় একজন, রানীনগর উপজেলায় একজন, মান্দা উপজেলায় দুই জন এবং সাপাহার উপজেলায় একজন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পলিনেট হাউসে উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রোকলি, স্কোয়াশ, শষা, ফুলকপিসহ অসময়ে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি চারা উৎপাদন করতে পারেন। কারণ এটি প্রতিকূল আবহাওয়া (ভারী বৃষ্টি, তাপ) এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে চারাকে রক্ষা করে। ফলে সারা বছর নিরাপদ, উন্নত মানের ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা যায়। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফলন ও ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

সদর উপজেলার মকমলপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, গত দেড় বছর থেকে পলিনেট হাউজে বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করছি। এতে যেকোনো মৌসুমের চারা উৎপাদন করা যায়। গুনগত মান ভাল হওয়ায় চাষিদের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সবসময় চাহিদা থাকে পেঁপে চারার। জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশের জেলায় এসব চারা সরবরাহ করা হয়। খামারে চারজন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
লিটনের পলিনেট হাউজের পরিচর্যাকারী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এখানে গত চার মাস থেকে কাজ করছি। প্রতিদিন ৪শ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানে কাজ করে বাড়তি আয় হয়, যা দিয়ে সংসারের কিছু খরচ মেটানো হয়। খামারে চারা নিয়মিত পরিচর্চা, পানি সেচ ও ককপিটে চারা রোপণ করার কাজ করি।
ফতেরপুর গ্রামের কৃষক সুইট হোসেন বলেন, পলিনেট হাউজে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত হওয়ায় আগাম পালং ও সবুজ শাক চাষ করে ভাল দাম পেয়েছি। এখন মরিচ আবাদ করার জন্য চারা রোপণ করেছি। তার আগে তরমুজ চাষ করেও ভাল দাম পেয়েছিলাম।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং কৃষকদের লাভের মুখ দেখানো। যেহেতু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সারাবছর কীটনাশক ছাড়াই সব ধরনের সবজি-চারা উৎপাদন করা যায় তাই লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে সবসময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিনিধি/টিবি

