images

সারাদেশ

শরীয়তপুরে ফের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় প্রাণ গেল রোগীর

জেলা প্রতিনিধি

১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

শরীয়তপুরে ঢাকাগামী একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা আটকে রাখার ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

জমশেদ আলী ঢালী ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগেও গত বছরের ১৪ আগস্ট একই ধরনের ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। যা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ জমশেদ আলী ঢালীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল (নিউরো সাইন্স)–এ নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করে রোগী ওঠান। তবে পরে চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে স্বজনরা বাধ্য হয়ে রোগী নামিয়ে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন, মানিক এবং চালক পারভেজ ও সজীবসহ ৭–৮ জন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন। এ সময় প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাকবিতণ্ডা চলে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা গাড়িটি ছেড়ে দেয়। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর জামতলা এলাকায় আবারও একই ব্যক্তিরা অ্যাম্বুলেন্সটির পথ রোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছাড়া পায়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু হয়। দুপুর তিনটার দিকে নিউরো সাইন্স হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান অভিযোগ করে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের লোকজন দুই দফা গাড়ি আটকে রাখার কারণে নানাকে সময়মতো ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান বলেন, ‘আমি পাঁচ হাজার টাকায় রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে প্রথমে কোটাপাড়া ব্রিজের কাছে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখা হয়। পরে জামতলা এলাকায় আবার ৪০ মিনিট গাড়ি আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে পৌঁছালে জানতে পারি রোগী মারা গেছেন।’

ঘটনার পর অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘যারা এ ধরনের অমানবিক কাজ করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি কখনো কাউকে জোর করে রোগী বহন বা গাড়ি আটকানোর নির্দেশ দিইনি। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘রোগীর একজন স্বজন মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এমআই