জেলা প্রতিনিধি
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫২) মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর শহরে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরেও প্রশমিত হয়নি। ক্ষুব্ধ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গভীর রাতে বিক্ষোভ করে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করেছেন। তবে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
_20260113_122402300.jpg)
জানা যায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল জীবননগর উপজেলা শহরে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত শামসুজ্জামান ডাবলুর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। আটকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ অসংখ্য মানুষ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হতে থাকেন। রাত দেড়টার দিকে পুরো শহর উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধরা চুয়াডাঙ্গা–জীবননগর প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে রাত ২টার পর থেকে ভোর ৩টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করে সেনাবাহিনী।
_20260113_122413811.jpg)
নিহত ডাবলুর ভাই ও জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন। তাকে যেভাবে পেটানো হয়েছে তা অমানবিক। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়-এটি হত্যাকাণ্ড।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
ঘটনার বিষয়ে উপস্থিত সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সংবাদকর্মীদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়। তবে গেটে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেন, ডাবলুর ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় চরম আতঙ্কে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। নির্যাতনের অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।
_20260113_122426556.jpg)
রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানান। রাত আড়াইটার দিকে তিনি হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে প্রকৃত পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন।
চুয়াডাঙ্গা–জীবননগর সড়ক অবরোধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গেলে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য উত্তেজিত জনতার হামলার শিকার হন।
প্রতিনিধি/টিবি