images

সারাদেশ

হাদি হত্যার বিচার করতে ‘বিপ্লবী সরকার’ চাইলেন বোন মাসুমা 

জেলা প্রতিনিধি

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করতে দেশে ‘বিপ্লবী সরকার’ চেয়েছেন বোন মাসুমা হাদি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদির’ নামে লঞ্চঘাটের নামকরণ উদ্বোধন শেষে বক্তব্যকালে তিনি এ দাবি জানান।

মাসুমা হাদি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিপ্লবী সরকার হতে হবে। এই বিপ্লবী সরকার ওসমান হত্যার বিচার না করে, তাহলে আর কোনো ওসমান জন্ম নেবে না। কোনো পরিবার আর কোনো ওসমানকে দেশে রাখবে না। ওসমান শুধু বাংলাদেশের না সারাবিশ্বে জুলুমদের ওসমান।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে যদি জীবিত রাখতে চান, তাহলে তার কাজগুলো চালিয়ে যেতে হবে। ওসমান হাদিকে মেরে দেশেকে আরও হাজার বছর পিছিয়ে দিল। ওসমান হাদি যদি আর পাঁচটা বছর বেঁচে থাকত, এ দেশেকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেত, যেখানে আপামর জনতার বাংলাদেশ হত।’

‘ওসমানকে কী ভারত হত্যা করেছে? শুধু আওয়ামী লীগ হত্যা করেছে? এর পেছনে অনেক এজেন্ট কাজ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদির মাথায় গুলির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আজকে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব নষ্ট করছে। ওসমান হাদি যদি বেঁচে থাকত! চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসরা বুঝে গেছে, ক্ষমতার দোহাই দিয়ে আর কোনো কাজ করা যাবে না। টাকা দিয়ে কাউকে কেনা যাবে না।’

ওসমান হাদির বোন বলেন, ‘এই সরকার আজকে বিপ্লবী সরকার হওয়ার কথা ছিল কিন্তু কেন হলো না? অন্তর্বর্তী সরকার কেনও চুপ্পুর (রাষ্ট্রপতি) হাতে ক্ষমতা দিল। তিনি স্বৈরশাসক হাসিনার লোক। যখনই তার কাছে শপথ পাঠ করলেন, তখনই আন্দোলন ব্যাহত হল। আমরা বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।’

সংসদ নির্বাচনের টাকার খেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচনে হাজার হাজার মোটরসাইকেল ও টাকা দিয়ে মিছিল করানো এগুলো বন্ধ করতে হবে। যদি এগুলো বন্ধ করা হয়, তখনই ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসবে। টাকার খেলা যাতে না থাকে। নির্বাচনে মার্কা দেখে ভোট দেওয়া যাবে না। যারা বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করবে তাকে ভোট দেবেন।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে হত্যার উদ্দেশে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। পরে তাকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে) দাফন করা হয়। 

প্রতিনিধি/এমআই