images

সারাদেশ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেকের রুইলুই লুসাই পাড়া

০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৩ এএম

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাড়া এখন পর্যটকদের তীর্থভূমি। শীতের শুরুতেই প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে আসছেন মেঘ–পাহাড় আর সূর্যোদয়ের মোহনীয় দৃশ্য দেখতে।

সাজেক প্রশাসনিকভাবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অংশ হলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের সুবিধার কারণে এখানকার পথ সহজ হয় খাগড়াছড়ি হয়ে যেতে। অঞ্চলটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ও ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এর আকর্ষণ আরও বেড়েছে।

thumbnail_IMG-20251129-WA0018

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে সাজেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে। এখানকার দুই প্রধান পাহাড়—রুইলুই (উচ্চতা ১,৭২০ ফুট) ও কংলাক (উচ্চতা ১,৮০০ ফুট)—থেকে মেঘের রাজ্য আর চারপাশের পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়।

ঢাকা থেকে সাজেক ভ্যালী ঘুরতে আসা নব দম্পতি সাদিয়া জাহান ও কামরুল ইসলাম জানান, এটি সাদিয়ার জীবনের প্রথম পাহাড় দেখা। তিনি বলেন, এত কাছে থেকে মেঘ, পাহাড়, সকাল–বিকেলের দৃশ্য—শব্দে প্রকাশ করা যায় না। জীবনে একবার হলেও সাজেকে আসা উচিত।

IMG-20251130-WA0000

ফরিদপুর থেকে আসা ইন্দ্রজিৎ সিকদার ও শিমুলী বিশ্বাস লুসাই সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বেশ আনন্দ পেয়েছেন। তারা বলেন, এখানে কোনো ঝামেলা নেই, সবকিছুই উপভোগ্য।

ঢাকা মিরপুর থেকে আসা মো. রাকিব হোসেন ও তমাও প্রথমবার সাজেকে এসেছেন। মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্মী তমা বলেন, এখানে এসে যেন প্রকৃতির প্রেমে পড়ে গেছি। সবাইকে সাজেকে আসার অনুরোধ করব।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে হানিমুন করতে আসা জয় ধর ও অনন্যা বনিক জানান, দৃষ্টি যতদূর যায় সবুজ পাহাড়, বন আর মেঘ আর সকালে সুর্যোদয়ের অপূর্ব সুন্দর—সব মিলিয়ে দৃশ্যটা অসাধারণ।

thumbnail_20251129_093203

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, মৌসুম ও সরকারি ছুটির ওপর ভিত্তি করে পর্যটকের সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে সাজেকে প্রায় ১০০টি কটেজ–রিসোর্ট রয়েছে। এখানে পর্যটক ধারণক্ষমতা সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার।

তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি রিসোর্ট পুড়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। স্থানীয়রা পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। কারও কারও মাসিক আয় লাখ টাকার উপরে পৌঁছেছে। পর্যটকদের নিরাপদে সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা।

প্রতিনিধি/টিবি