জেলা প্রতিনিধি
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৫ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা কমিটিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরকে আহ্বায়ক করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সদ্য ঘোষিত রাজশাহী জেলা কমিটির ৫ নেতা।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর পর্যটন মোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ২৯ নভেম্বর এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে রাজশাহী জেলা কমিটি কমিটি ঘোষণা হয়।
পদত্যাগ করা এনসিপির ৫ নেতা হলেন- দলটির রাজশাহী জেলা কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান, মিঠুন সরকার, তারিকুল ইসলাম, মাসুদ রানা ও রাকিবুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যে আহ্বায়ক পেয়েছি, সে আওয়ামী লীগের দোসর। রাজশাহীর মাটি সোনার চেয়ে খাটি। আমরা চাই না, রাজশাহীর মাটিতে আওয়ামী লীগের দোসর থাকুক। তাই আমরা ৫ সদস্য পদত্যাগ করলাম।
![]()
পদত্যাগ করা নেতারা বলেন, 'আমরা জুলাই আন্দোলনে সম্মুখের যোদ্ধা ছিলাম, স্বৈরাচার হটানোর জন্য আন্দোলন করলাম সে স্বৈরাচারের অন্যতম দোসর সাইফুল ইসলামকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক করে রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি রাজশাহীর মাটিতে করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া নাম না জানা একজনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। যাদের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই। আমরা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা এ কমিটি দেখে মর্মাহত। আমরা অবিলম্বে এ কমিটি বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছি। রাজশাহীর মাটিতে আওয়ামী লীগের দোসরের কোনো স্থান হবে না। আওয়ামী লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আমরা আবার রাজপথে নামব। কমিটি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ৫ জন পদত্যাগ করলাম।
এ বিষয়ে একই সময়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন এনসিপির রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজকে একটা ডিফারেন্ট এক্সপেরিয়েন্স। অনেকেই আমাকে চিনেন। নানাভাবে চিনেন। কেউ জেনে চিনেন, কেউ না জেনে চিনেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন কোনোভাবে হয়নি। তাই ২৪ জুলাই। আমাদের সামনে দুটো পথ খোলা। জবাবদিহিতার সংকট। অন্যদিকে জুলাই সনদের প্রতিজ্ঞা অঙ্গীকার। এটা নিয়েই এনসিপির যাত্রা। আজকের এই দিনে খুশি থেকে বিবৃতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মনঃকষ্ট বলা যায়। নানান তথ্য পেয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন। বিক্ষিপ্তভাবে উত্তর দিয়েছি। কিন্তু সবার সামনে ক্লিয়ার করা প্রয়োজন। কিছু ছবি কিছু ভিডিও ফোন স্ক্রল করলে দেখা যায়।
সাইফুল আরও ইসলাম বলেন, সত্যের নিজস্ব পাওয়ার আছে। উন্মোচন হবে, অপেক্ষা করেছিলাম কিন্তু সত্য অনেক স্লো। তাই আমাকে টায়ার্ডনেসের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগের দালাল, পরিকল্পনাকারী, মাস্টারমাইন্ড এগুলো শুনছি। শুনে শুধু হতভম্ব হই না, নিজেকে খুঁজে বেড়াই। অনেকে জানতে চেয়েছেন ছবি ও ভিডিওগুলোর বিষয়ে, আমি বলি ওগুলো ফেক না, সত্য। আই ওয়াজ দেওয়ার। ঘটনাটা কমপক্ষে ১২ বছর আগের। চৈতির বাগানে ছিল। উপস্থাপনা করি, কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম, পুরস্কারও নিয়েছিলাম। শখ করে তোলা ছবিকে ম্যানুপুলেট করে ফ্রেমিং করা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে দুহাতে গুলি চালানো বর্তমানে হত্যা মামলায় গ্রেফতার রুবেলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছিলেন সাইফুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের সময়কার ওই ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওর ব্যাপারে আমি অবগত। আমার বাসাটা ওখানে। টুকটাক বিজনেস করি। চা খাওয়ার জন্য (ওইদিন) বের হয়েছিলাম। আমাকে ভেতরে ডাকা হলো, আসেন। বলা হলো, এটা পড়ে দেন। আমি তো কিচ্ছু জানি না। তারা ২/৩ বার পড়িয়ে নিল। তারা জানতো আমি উপস্থাপনা করি, গুছিয়ে কথা বলতে পারব। রুবেলকে আপনারা সবাই চেনেন, আপনারা বলুন তো, তখন আমি কী করতে পারতাম তাই পড়লাম আর হয়ে গেল সাইফুল বাজে ইনটেনশনের সঙ্গে জড়িত।
সাইফুল আরও বলেন, রুবেল তো রাজশাহী কারাগারে আছে। খোঁজ নেন, কারা তার সঙ্গে ভিজিটর খাতায় লেখা আছে, দেখেন, এলাইন করে নাম্বার বের করেন। চ্যালেঞ্জ থাকল, অনৈতিক কাজ সাইফুল করেছে সোসাইটি বিনষ্ট করবার জন্য, সুদ ঘুষ এটা ওটা, বের করতে পারেন। আমি ক্ষমা চেয়ে চলে যাব। ও ভাই, আমি তো টায়ার্ড হয়ে গেছি, ভীষণ রকম টায়ার্ড।
![]()
রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বলেন, জিয়া পরিষদের কমিটি আমার বাসায় আছে। রাষ্ট্রচিন্তার সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার ছিলাম।
সংবাদ সম্মেলন চলা অবস্থায় এক যুবক এসে সাংবাদিকদের হুমকি দিলে হট্টগোল শুরু হয়। সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এনসিপি নেতাকর্মী চলে যান। পরে ৫ নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে এনসিপি জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে এনসিপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন ঢাকা মেইলকে বলেন, সাইফুল ভাই তার বিষয়টি ক্লিয়ার করেছেন। এ বিষয়ে আগেও আলাপ এসেছে। আমরা তেমন কিছু পাইনি। শুধু ছবি ভিডিও ছিল, ওটা ছাড়া কিছু পাইনি।
এনসিপি থেকে ৫ নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজনের পদত্যাগের কথা জানি, তার নাম মোবারক। আর কেউ করেছেন কি না আমার জানা নেই।
এসব ব্যাপারে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তবে তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এসএস