Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

পিরোজপুরে ৫৩৯ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য

জেলা প্রতিনিধি

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম

পিরোজপুরে ৫৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া ২২০টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, পিরোজপুরে সাত উপজেলায় ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ আছে ৯৮৯টি। ৯৮৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে সরাসরি নিয়োগ পদ রয়েছে ২৩টি বাকি পদগুলো পদোন্নতি। সরাসরি নিয়োগের ২৩টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন।

images

৩০৩টি বিদ্যালয়ে চলতি দ্বায়িত্ব ও বাকি ২৩৬টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই কার্যক্রম চলছে। জেলার ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ভর্তি হিসেবে এক লাখ ১১ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ওই সব শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলে কর্মরত পাঁচ হাজার ১৮৪ জন।

সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ চার হাজার ৯৫৯টি। ওই পদে শূন্য আছেন ২২০ জন শিক্ষক। এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ৪৩টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এইউইও) পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত ১৯ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। বাকি ২৪টি পদ বিভিন্ন মেয়াদে শূন্য রয়েছে। শূন্যতার শেষ নেই খোদ জেলা অফিসও কর্মচারীর অভাবে দাফতরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা অফিসসহ সাত উপজেলায় ১১ গ্রেড থেকে ২০ গ্রেডের পদ আছে ৪৪টি। যার বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮জন, শূন্য পদ ৩৬টি। জেলার ৮টি অফিসে এমএলএস নেই ১জনও, ১৬  গ্রেডে ১৮ জনের বিপরীতে ৮টি অফিসে কর্মরত আছেন ৫জন, ১৪ গ্রেডে ৮জনের স্থানে আছে ১জন, ক্যাশিয়ারের পদটিও শূন্য। সহকারী ক্যাশিয়ারের ৭টি পদে কর্মরত ১জন, নেই ড্রাইভারও। অফিসের কর্মচারীরা জানান, ২০০৪ সালের পর কোনো পদে নিয়োগ হয়নি। এই পদগুলো শূন্য রয়েছে ২১ বছর ধরে।

new-edu-logo-20181201164605

জানা যায়, জেলার সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ১৩৩টি পদের মধ্যে ৬৭টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ৩৫জন। নাজিরপুর উপজেলায় ১৮২টি মধ্যে ৮৬টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ৪২ জন। ইন্দুরকানী উপজেলায় ৬৯টি মধ্যে ৪৪টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ২৯ জন। মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২০৬টি মধ্যে ১৩৫টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ৫৪ জন। ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১৬২টি মধ্যে ৮৮টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ৮৪ জন। নেছারাবাদ উপজেলায় ১৭০টি মধ্যে ৮৫টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ৪৪ জন এবং কাউখালী উপজেলায় ৬৭টি মধ্যে ৩৪টি নেই, চলতি দ্বায়িত্বে ১৫জন এই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

সরাসরি নিয়োগ ২৩ প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এই পদটিতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হোক।

আরও পড়ুন

এনসিটিবির কাজে ছাপাখানায় সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক

জেলার সাতটি উপজেলার অত্যন্ত ৩০টি স্কুলের চলতি দ্বায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে একসঙ্গে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দ্বৈত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে অনেককে বেশ বেগ পোহাতে হয়। আমরা চাই আমাদের চলতি দ্বায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত থেকে পদোন্নতি করা হোক।

education-2-20240516184459-20240717112627-202409302030541-20250304075907

অভিভাবকদের অভিযোগ শিক্ষক কম থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রধান শিক্ষকদের পদশূন্য থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিক পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন কাজ থাকে এ কাজগুলো যদি চলতি বা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক থেকে করা হয় তাহলে ওই শিক্ষকের শ্রেণি পাঠদান করানো হয় না। শূন্যপদগুলো খুব দ্রুত পূরণ করার চেষ্টা চলছে। সরকার আমাদের ডিপার্টমেন্টে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি দিচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে এগুলো নিয়োগ হবে।

বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মিজ নিলুফার ইয়াসমিন জানান, আমাদের যতগুলো পদশূন্য আছে তার তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পদোন্নতি করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস