Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নানা ছুতোয় গন্তব্যে যায় না লঞ্চ, দুর্ভোগে হাতিয়া দ্বীপের বাসিন্দারা

জেলা প্রতিনিধি

৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৭ পিএম

নৌ-সতর্ক সংকেতসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাচ্ছে না হাতিয়া-ঢাকা রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই রুটে চলাচলকারী হাতিয়া ও মনপুরা দ্বীপের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চ মির্জা কালু (হাকিমুদ্দিন) পর্যন্ত এসে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। তারপর হাতিয়ার যাত্রীদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলারযোগে গন্তব্যে যেতে হয়। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে,  ১-২ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলে হাতিয়া যাওয়ার পারমিট দেয় না বিআইডব্লিউটিএ। তবে ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, লঞ্চে কেবিন নিয়ে নয়-ছয় এবং ট্রলার মালিকদের বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই যাত্রী হয়রানি করা হচ্ছে।

thumbnail_IMG20250829175016

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদফতর থেকে কোনো নৌ-সতর্ক সংকেত না থাকার পরও হাতিয়া-ঢাকা রুটের লঞ্চ দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া তমরোদ্দি ঘাটে যায়নি। ফলে হাতিয়ার যাত্রীরা ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার পথ ট্রলার এবং ট্যাঙ্কারযোগে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে মির্জা কালু ঘাটে এসে লঞ্চে উঠেছে। সেই সঙ্গে মনপুরা ও তজুমুদ্দিন ঘাটের যাত্রীরা একইভাবে লঞ্চে পৌঁছেছে। 

thumbnail_IMG20250829175237

বেলা সাড়ে ১১টায় হাতিয়ার তমরোদ্দি ঘাট থেকে যাত্রীরা ট্রলার ও ট্যাঙ্কারযোগে রওনা দিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় লঞ্চে উঠে। এই দীর্ঘ যাত্রা পথ ও কাঠফাটা রোদে টাঙ্কারের ভেতরে থাকা শিশুদের কান্না আর নারীদের চিৎকার করতে দেখা যায়। প্রতিবেদকও এসময় দুর্ভাগাদের সঙ্গে একই পথের যাত্রী ছিল। সেইসঙ্গে ঢাকায় শিক্ষক আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য হাতিয়াসহ অন্যান্য ঘাট থেকে শতাধিক প্রাইমারি শিক্ষকও ছিল। আবহাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত ও নৌপথের এ দুর্ভোগের বিষয়ে তারাও হতাশা প্রকাশ করেন।

শিহাব, মজহারসহ একাধিক যাত্রী বলেন, ৩০০টাকা ট্রলার/ট্যাঙ্কার ভাড়াও দিতে হয়, কষ্টও করতে হয় আবার লঞ্চের ভাড়াও প্রায় সমান সমান দিয়ে দিতে হয়।

আরও পড়ুন

নাফ নদীতে জেলেদের মূর্তিমান আতঙ্ক আরাকান আর্মি, এক বছরে ২৫৭ জেলে অপহরণ

এদিকে ট্রলার মালিক ও চালক শরীফ বলেন, তমরোদ্দি ঘাট মালিককে যাত্রী প্রতি দিতে হয় ৫০ টাকা। যাত্রীদের থেকে যা নেওয়া হয় জ্বালানি খরচ বাদে তাদের আর কিছু থাকে না বলে জানান তিনি। এ সম্পর্কে তমরোদ্দি ঘাট ইজারাদার পক্ষের শামীম জানান, ৫০ টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি তার জানা নেই। তবে লঞ্চ ঘাটে না ভিড়লে তাদের যেমন ক্ষতি, ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণের ক্ষতি, লঞ্চ মালিকেরও লোকসান হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা-হাতিয়া রুটে বর্তমানে তাসরিফ ও ফারহানের দু’টি করে চারটি লঞ্চ চলাচল করে। তাসরিফ-১ লঞ্চের মাস্টার রফিক জানান, ঢাকা থেকে হাকিমুদ্দিন পর্যন্ত নদীবন্দর, এর পরের অংশ সমুদ্র এলাকা। ১-৩ নম্বর সিগন্যাল উঠলে সমুদ্র বন্দরের দিকে লঞ্চ ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা দেন বিআইডব্লিউটিএ।

thumbnail_IMG20250829153941

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লঞ্চ সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, দেশের কোনো মা-বাপ না থাকায় কেউ কিছুর দায়িত্ব নিতে চায় না। ফলে আবহাওয়া সামান্য খারাপ হলেই নৌ-চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আসে। 

জানা যায়, ঢাকা-হাতিয়া নৌ-রুট ২৬৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে হাতিয়া থেকে হাকিমুদ্দিন পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটারে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় ৩০০ টাকা। অথচ লঞ্চ ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে দূরত্ব কমার কারণে মাত্র ১০০ টাকা ছাড় দিয়েছে লঞ্চ মালিক পক্ষ। আর কেবিন ভাড়া সমানে সমান দিয়ে ফেলতে হয়। দূরত্ব কমলেও এখানে কোনো ছাড় দেয় না তারা। আবার নির্দিষ্ট ভাড়া ছাড়াও অলিগলিও জনপ্রতি ২০০/২৫০ টাকা নিয়ে ভাড়া দেয় তারা। এতে কেবিনের যাত্রীদের চলাফেরায়ও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

আরও পড়ুন

দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলদিয়া নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু

বিআইডব্লিউটিএর সদরঘাট ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার যুগ্ম পরিচালক মোবারক জানান, আগামী সময় থেকে তারা দায়িত্ব সচেতন হয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ভোলা নৌবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও (বিআইডব্লিটিএ) অবস্থা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জনভোগান্তির ঘটনা সত্য। তবে আবহাওয়াসহ হাতিয়া-ঢাকা রুট সংক্রান্ত খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস