কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে জেলেদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক মিয়ানমারের আরাকান আর্মি (এএ)। বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী থেকে জেলে ও মাঝিমাল্লাদের ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। এ নিয়ে গত ২১ দিনে ৫৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সদস্যরা। এবং গত এক বছরে ২৫৭ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ( এএ)। ফলে মিয়ানমারের এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছেন জেলেরা।
তারা স্পিডবোট নিয়ে নাফ নদীর বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে জেলেসহ মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে ১৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
![]()
এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ বাংলাদেশি ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি (এএ)।
স্থানীয়রা জানান, জেলেদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে নাফ নদী ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া নামক নাফনদীর মোহনা থেকে বারবার জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। এই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরতে ভয় পাচ্ছেন।
ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, বারবার ট্রলার ও জেলে অপহরণের কারণে লোকসানে পড়েছেন ট্রলার মালিকেরা। এসব ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলে ও মালিকের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
![]()
জেলে আবু সালেহ বলেন, সাগরে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের পূর্ব-দক্ষিণে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনাসংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে। এরপর ট্রলার ও জেলেদের আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
জেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের সন্ত্রাসীদের কারণে আমরা মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছি। সন্ত্রাসীরা জেলেদের অপহরণের পাশাপাশি ট্রলার, জাল এবং মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ কারণে মাছ শিকারে যেতে পারছে না জেলেরা।
![]()
ট্রলার মালিক সমিতি ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ২৫৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলে এবং ২৭টি ট্রলার ও নৌকা ফেরত আনা হয়।
ট্রলার মালিকদের দাবি, আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে নাফ নদীর বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ছেন। তারা অস্ত্রের মুখে টেকনাফের জেলেসহ মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবির তৎপরতায় কিছু জেলেকে ফেরত আনা গেলেও ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। এ নিয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
![]()
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২১ দিনে ৫৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে ২৪ আগস্ট দু'টি ট্রলারসহ আরও ১৪ জেলে, ২৩ আগস্ট একটি ট্রলারসহ ১২ জেলে, ১২ আগস্ট এক ট্রলারসহ ৫ জেলে এবং ৫ আগস্ট বিহিঙ্গি জাল ও নৌকাসহ ২ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, আরাকান আর্মির ভয়ে নাফ নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। বিভিন্ন সময় মাছ ধরে ফেরার পথে জেলেদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। এতে জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
![]()
টেকনাফ -২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান জানান, জেলে এবং জব্দ করা ট্রলার ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আরাকান আর্মি সদস্যরা বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ শিকার শেষে ফেবার পথে বাংলাদেশি ট্রলারসহ জেলেদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




