জেলা প্রতিনিধি
১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৫৪ এএম
দেখতে ময়ূরের মতো মনে হলেও আসলে তা বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি মুরগি। সাদা-কালো আর বাহারি রঙের পালকে ঢাকা। কোনোটির মাথা দেখতে প্রায় সিংহের কেশরের মতো, আবার কোনোটির সাদা বা কদমফুল। এমন বিদেশি নানা জাতের মুরগি পালন করে সফল শরীয়তপুরের জুয়েল তালুকদার।
শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ এলাকার বাসিন্দা জুয়েল তালুকদারের বর্তমান মুরগি থেকে মাসিক আয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

জুয়েল তালুকদার পেশায় একজন চায়ের দোকানি। বছর দুয়েক আগে শখের বশেই ইউটিউব দেখে বিদেশি মুরগি পালনের ইচ্ছে হয় তার। চায়ের দোকান করে কিছু টাকা সঞ্চয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পেইজ থেকে ৭ হাজার টাকায় কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহ্মা জাতের চারটি মুরগির বাচ্চা কিনে এবং তার এই মুরগি পালন শুরু করেন। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এরপর মুরগি থেকে ডিম সংগ্রহ করে ব্রিড করিয়ে বাচ্চা বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে জুয়েলের খামারে রয়েছে ইউরোপিয়ান সিল্কি, কলাম্বিয়ান লাইট ব্রাহ্মা, বাফ পলিশক্যাপ, মলটেন, হোয়াইট কোচিং, মিশরি ফাউমিসহ ৮ প্রজাতির অন্তত ২০০টি মুরগি, যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ২ লাখ টাকা। জাত ও আকৃতি ভেদে প্রতি জোড়া মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। আর মুরগির ডিম থেকে ফোটা বাচ্চাগুলো চলে যায় রাজশাহী, দিনাজপুর, শেরপুর, ফরিদপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায়। তার এই আয়ের ওপর সচ্ছলতা ফিরেছে সংসারে।

জুয়েল তালুকদার ঢাকা মেইলকে জানান, শখের বশেই এই মুরগি পালন শুরু। এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আয় হয় এই মুরগি থেকে। পাশাপাশি আমার দোকান ও চলছে।
জুয়েল তালুকদারের বাবা বলেন, আগে পাখি পালতো জুয়েল। পরবর্তীতে এই মুরগি পালা শুরু করে। এখন সে এই মুরগি এবং মুরগি ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে ভালো কিছুই আয় করছে।
খামার দেখতে আসা শীহান নামের এক তরুণ ঢাকা মেইলকে বলেন, শুনেছি জুয়েল ভাই বিদেশি মুরগি পালন করে। সময় করে দেখতে আসতে পারি না। আজ সময় হলো তাই দেখতে আসছি। আমারও ইচ্ছা আছে আমিও পালব।
![]()
এলাকাবাসী বলেন, জুয়েল চায়ের দোকান করতো আর পাখি পালতো। পরে দেখলাম এই বিদেশি অনেক রকম মুরগি পালা শুরু করল। এখন শুনি সে এই মুরগি বিক্রি করে ভালো কিছু টাকা আয় করতে পারে।
এদিকে জুয়েলের মুরগির খামার দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। খামার তৈরিতে নিচ্ছেন নানান পরামর্শ।
সমাজে পিছিয়ে পড়া বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করছেন শরীয়তপুরের জুয়েল তালুকদার। জুয়েল তালুকদারের এমন সফলতার গল্পগুলো হয়ত একদিন পাল্টে দেবে গ্রামীণ পর্যায়ের অর্থনীতির চিত্র।
প্রতিনিধি/এসএস