জেলা প্রতিনিধি
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:১১ পিএম
ফরিদপুরের সালথায় চরম নিগ্রহের শিকার হয়েছেন আরিফা বেগম (২১) নামের এক গর্ভবতী নারী। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে রক্তক্ষরণ হলে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরে মৃত সন্তান প্রসব করেছেন ওই নারী।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই নারীকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন: নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আরিফা বেগম গোপালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের মেয়ে ও একই উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের শওকত মোল্যার স্ত্রী।
ওই নারীর পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি পক্ষের লোকজনের হামলায় ইয়ার আলী (৫২) নামের এক মুদি দোকানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) মারা যান। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে মাঝে-মধ্যেই ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা আরিফা বেগমের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
আরও পড়ুন: বান্দরবানে বজ্রপাতে মারমা নারীর মৃত্যু
একপর্যায়ে বাধা দিলে আরিফার গলা টিপে ধরা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। এতে প্রথমে রক্তক্ষরণ ও পরে মৃত বাচ্চা প্রসব করেন আরিফা। তারপরও রাতে আরিফাকে হাসপাতালে নিতে দেননি প্রতিপক্ষের লোকজন। শুক্রবার সকালে পাশের গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের নেতা আইয়ুব মাতুব্বর। তিনি বলেন, ‘ওই নারীকে কোনো প্রকার মারধর বা নির্যাতন করা হয়নি। এরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের পক্ষের লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ওই নারীর এমনিতেই গর্ভপাত হয়েছে।’
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/ এমইউ