Dhaka Mail Logo

ককপিট

বাংলাদেশ-সৌদির বিমান যোগাযোগে বাড়ছে ফ্লাইট ও কার্গো সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন সমঝোতার আওতায় দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি কার্গো ও বাণিজ্যিক যোগাযোগেও যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ সময় বেবিচকের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এর আগে অনুমোদিত ফ্লাইট সংখ্যা ছিল ৪৯টি। ফলে সপ্তাহে ৩৫টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে বেবিচক। বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং আসন সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি এই সুবিধার অন্যতম বড় সুফলভোগী হবেন। ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়লে প্রবাসীদের দেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে যাত্রীদের তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।‘

‘নতুন সমঝোতায় শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকেও সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সৌদিগামী যাত্রীদের জন্য যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহারও বাড়তে পারে।’

‘যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। এর ফলে তৈরি পোশাক, তাজা শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন রফতানি পণ্য দ্রুত সৌদি আরবের বাজারে পাঠানোর সক্ষমতা বাড়বে।’

‘এ ছাড়া ‘ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস’-এর আওতায় বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে স্পেন, জার্মানিসহ নির্ধারিত তৃতীয় গন্তব্যে কার্গো পরিবহনের সুযোগ পাবে। বেবিচকের মতে, এর ফলে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি দেশকে আঞ্চলিক কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাড়বে।’

‘নতুন সমঝোতায় কোড-শেয়ারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো নিজ দেশের, অপর পক্ষের কিংবা তৃতীয় দেশের এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কোড-শেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক সহযোগিতায় যুক্ত হতে পারবে। এতে যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক রুটে আরও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও সহজ সংযোগের সুযোগ তৈরি হবে।’

‘এ ছাড়া ‘কো-টার্মিনালাইজেশন’ সুবিধার মাধ্যমে একই ফ্লাইটে একটি দেশের একাধিক গন্তব্যে সেবা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি ‘ওয়েট লিজ’-এর মতো উড়োজাহাজ লিজিং ব্যবস্থার সুযোগ থাকায় ব্যস্ত মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা সহজ হবে।’

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘নতুন সমঝোতা কেবল দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ যাত্রী পরিবহন, প্রবাসীদের যাতায়াত, কার্গো পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এয়ারলাইনগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা দুই দেশের বিমান চলাচল সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ এবং দেশকে একটি কার্যকর আঞ্চলিক বিমান ও কার্গো হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

এম/এমআই